‘আগে কত সুন্দর সেবা পেতাম, সেই জায়গা ধ্বংস করে দেওয়া হলো’

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৬

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ছেলেকে টিকা দিতে এসে এমন আক্ষেপ করেন তুহিন খান। তার ছেলে তাহান খানের বয়স ১৬ মাস।

তুহিন বলেন, ‘আগের ও বর্তমান পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। এখন পুরাই ভাঙাচোরা, ময়লা। আগে কত সুন্দর ছিল জায়গাটা। আমরা এসে কত সুন্দর সেবা পেতাম। সেই জায়গা ধ্বংস করে দেওয়া হলো।’ 

হামলার পর গত শনিবার ছেলেকে টিকা দিতে এসে ভিড়, ধুলাবালু ও অনিরাপদ পরিবেশ দেখে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, আজ এসে মোটামুটি ভালো পরিবেশ পেয়েছেন এবং ছেলেকে টিকাও দিতে পেরেছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একটি কক্ষ পরিষ্কার করে সীমিত পরিসরে টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই কক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে একটি সিলিং ফ্যান লাগানো হয়েছে। কেন্দ্রের অন্য কক্ষগুলোও পরিষ্কার করা হয়েছে এবং সেখানেও বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে পাখা বসানো হয়েছে। তবে এখনো পানির সংযোগ চালু হয়নি। শৌচাগারও পুরোপুরি মেরামত করা হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা চালুর মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

কেন্দ্রটির পেছনের দিকে একটি বারান্দায় ইটের গাঁথুনি দিয়ে দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। বিভিন্ন অংশে সংস্কারকাজ চললেও হামলা ও ভাঙচুরের চিহ্ন এখনো স্পষ্ট।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর কেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শনিবার থেকে সীমিত পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দুই দিন সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে টিকা দেওয়া হলেও সোমবার থেকে কেন্দ্রের একটি ভাঙা কক্ষের ভেতরে টিকাদান শুরু করা হয়।

মঙ্গলবার আগের কয়েক দিনের তুলনায় কেন্দ্রটিতে মানুষের ভিড়ও কিছুটা কম দেখা গেছে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, প্রথম দিন কেন্দ্রের বাইরে বসেই টিকাদান কার্যক্রম চালাতে হয়েছিল। এখন অবশিষ্ট অবকাঠামোর মধ্যেই সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হচ্ছে। একটি কক্ষ প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। সেখানে সরকারি টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির টিকা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া যেসব সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রয়োজন হয় না, সেসব সেবাও সীমিত পরিসরে দেওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে গর্ভবতী মায়েদের সেবা, প্রসব-পরবর্তী সেবা, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা পুরোপুরি চালু করতে অবকাঠামো সংস্কার জরুরি বলে জানান নাসরিন আখতার। এসব সেবা চালু করতে রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎ ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধাগুলোও পুরোপুরি সচল করতে হবে বলে জানান তিনি।

নাসরিন আখতার বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রটির অবশিষ্ট স্থাপনা সংস্কার করে কাজের উপযোগী করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দ্রুত কাজ শুরু হয়েছে। পানি ও বিদ্যুতের বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শৌচাগারের কাজও শুরু হয়েছে। এগুলো দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে তারা আশা করছেন।

পুরো অবকাঠামো সংস্কার করা গেলে আগের মতো বিস্তৃত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক।

ইত্তেফাক/এসজেএস