দুই বড় জাহাজের সংঘর্ষে মাঝে পড়ল লাইটার, শ্রমিকের চিৎকার ‘আল্লাহরে, ইন্না লিল্লাহ’

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৭

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের কুতুবদিয়া এলাকায় কয়লাবাহী জাহাজ এপিজে শিরিন ও একটি লাইটার জাহাজের পাশে ধাক্কা দিয়েছে সয়াবিনবীজবাহী এমভি এইচজি সিডনি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কুতুবদিয়ায় এপিজে শিরিনের পাশে একটি লাইটার জাহাজ বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় নোঙর তুলে গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করছিল এমভি এইচজি সিডনি। একপর্যায়ে জাহাজটি এগিয়ে গিয়ে এপিজে শিরিন ও পাশে থাকা লাইটার জাহাজটিতে ধাক্কা দেয়।

সংঘর্ষের সময় এপিজে শিরিনে পণ্য খালাসের কাজে থাকা এক শ্রমিককে আতঙ্কে চিৎকার করতে শোনা যায়, ‘লাইটার শেষ, আল্লাহরে, ইন্না লিল্লাহ।’

দুই বড় জাহাজের মাঝখানে পড়ে যায় ছোট লাইটার জাহাজটি। তবে সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং সামুদ্রিক দূষণেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আসা এপিজে শিরিন পানামার পতাকাবাহী জাহাজ। আর লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি এইচজি সিডনি ব্রাজিল থেকে প্রায় ৫১ হাজার টন সয়াবিনবীজ নিয়ে এসেছে।

দুই জাহাজের মাঝখানে লাইটার

ঘটনার সময় ধারণ করা দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, এপিজে শিরিনের গায়ে লাগিয়ে লাইটার জাহাজটি অবস্থান করছিল।

এ সময় এমভি এইচজি সিডনি নোঙর তুলে গতিপথ পরিবর্তন করতে গিয়ে এপিজে শিরিনের খুব কাছে চলে আসে। একপর্যায়ে জাহাজটির পাশের অংশ এপিজে শিরিনে আঘাত করে। একই সঙ্গে দুই বড় জাহাজের মাঝখানে থাকা লাইটার জাহাজটিও ধাক্কা খায়। লাইটার জাহাজটি কয়লা খালাসের জন্য এপিজে শিরিনের পাশে ছিল।

ভিডিওতে দেখা যায়, এইচজি সিডনির ধাক্কায় লাইটার জাহাজটির সামনের দিকের ওপরের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। তবে ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গে লাইটারটি সরে যাওয়ায় দুই বড় জাহাজের মধ্যে চাপা পড়া থেকে রক্ষা পায়।

ঘটনার সময় ভিডিও ধারণকারী শ্রমিকদের কণ্ঠে আতঙ্ক শোনা যায়। লাইটার জাহাজটির দিকে এইচজি সিডনিকে এগিয়ে আসতে দেখে তাদের একজন চিৎকার করে ওঠেন, ‘লাইটার শেষ, আল্লাহরে, ইন্না লিল্লাহ।’

‘বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি’

এমভি এইচজি সিডনির স্থানীয় প্রতিনিধি লিটমন্ড শিপিংয়ের পরিচালক বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ধাক্কায় লাইটার জাহাজটির সামনের ওপরের অংশ সামান্য বেঁকে গেছে। তবে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনায় কোনো হতাহত বা সামুদ্রিক দূষণের খবর পাওয়া যায়নি। দুই বিদেশি জাহাজই বর্তমানে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএস