পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি টিইউ ৯৫ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণকারী দল পাঠানো হয়। বিমানটির এক ক্রু সদস্য আহত অবস্থায় বেঁচে গেছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আমুর অঞ্চলের ইউক্রেনকা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর ক্রাসনোইয়ারোভো শহরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মাটিতে আছড়ে পড়ার পর এর জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় প্রশিক্ষণ চলাকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রুশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অ্যারোস্পেস ফোর্সেসের একটি বিশেষ কমিশন ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে মস্কো। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে ঘটনাস্থল থেকে আগুন ও ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

তুপোলেভ টিইউ ৯৫ সোভিয়েত আমলে তৈরি দীর্ঘপাল্লার একটি ভারী বোমারু বিমান। পারমাণবিক অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপে সক্ষম এই বিমান প্রথম আকাশে ওড়ে ১৯৫২ সালে এবং ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। রাশিয়া এখনো বিমানটি ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় এর অংশগ্রহণ রয়েছে।

রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামরিক ও বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। গত বছরের জুলাইয়ে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তিনদা শহরের পথে একটি আন্তোনভ এএন ২৪ বিমান বিধ্বস্ত হলে বিমানে থাকা ৪৮ জনই নিহত হন।

এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে কামচাটকা উপদ্বীপে ১৬ আরোহী নিয়ে একটি মিল মি ৮ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই হেলিকপ্টারের অধিকাংশ আরোহী ছিলেন পর্যটক।

এদিকে বর্তমান দুর্ঘটনায় আহত ক্রু সদস্যকে মাঝারি ধরনের আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকারী ও অগ্নিনির্বাপণকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সূত্র: আলজাজিরা

ইত্তেফাক/এসএ