গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপসনামা দাখিল, পিপি বললেন আদালত আমলে নেননি

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০৩

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের করা একটি আপসনামা আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তবে আদালত ওই আপসনামা আমলে নেননি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন শুনানি হয়।

শুনানিকালে উত্থাপিত আপসনামাটি আদালত গ্রহণ করেননি, তবে আসামি মাকছুদা ইসলামের বয়স ও নারী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন মঞ্জুর করলেও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেননি আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, বুধবার আদালতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে বাদী মো. মাসুম বিল্লাহর (মরিয়মের বাবা) কোনো আপত্তি নেই বলে জানান। এদিন আসামিপক্ষ জামিননামার সঙ্গে একটি আপসনামা দাখিল করেন, তবে আদালত আপসনামা গ্রহণ করেনি। বয়স ও নারী বিবেচনায় মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আপসনামা আদালত গ্রহণ করলে তো দুজনকেই জামিন দিতেন। এই মামলা আপসযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জানান, আদালত আপসনামা আংশিক গ্রহণ করে মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন। আর গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
 
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।
 
পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তার রুমে কিছু চিরকুট পাওয়া যায়। ঘটনার পরদিনই নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাকছুদাও একদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।
ইত্তেফাক/এমএসআর