মাঝ আকাশে ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, তবুও বেঁচে ফিরল ১৮০ যাত্রী

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৬

মাঝআকাশে সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতের চেষ্টার পর ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান। দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী বিমানটিতে অন্য দুই পাইলটের সহায়তায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়িয়ে নিরাপদে অবতরণ নিশ্চিত করা হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩। তাবুক বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, পাইলট ও সহকারী পাইলট দুজনই আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বিমানের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন।

ঘটনার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের আগের মূল্যায়ন বদলেছে। এখন তারা এটিকে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। আগে বলা হয়েছিল, দুই পাইলটের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের কারণে ফ্লাইটটি গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ফ্লাইটটি প্রথমে আন্তর্জাতিক জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে সেটি পরিবর্তন করে ছিনতাই বা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত দেওয়া হয়। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম জরুরি সংকেত পাঠানোর আগে মাত্র দুই মিনিটে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ২০ মিনিটে বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট থেকে মাত্র দুই মিনিটে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ ফুটে নেমে আসে। অর্থাৎ ওই সময় প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতা কমে যায়। এর কয়েক মিনিট পর, রাত ১টা ৩২ মিনিটে প্রথম জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

প্রথমে ৭৭০০ স্কোয়াক কোড ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত। পরে সেটি ৭৫০০ কোডে পরিবর্তন করা হয়। এই সংকেত মানে বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য ছিনতাই। শুধু এই সংকেতের ভিত্তিতে ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল তা নিশ্চিত করা যায় না। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানটিতে কয়েক ডজন ইসরায়েলি নাগরিক থাকায় ৭৫০০ সংকেত পাওয়ার পরপরই সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় তেল আবিব থেকে যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, পরে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি তেলআবিবের দিকে না গিয়ে জর্ডানের আকাশসীমার দিকে সরে যায়। এরপর ঘুরে সৌদি আরবের দিকে চলে যায় এবং তাবুকে অবতরণ করে।

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, ককপিটে পাইলটদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন পাইলট আত্মহত্যা করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি।

যাত্রীর আসনে থাকা দুই পাইলট বাঁচিয়ে দিলেন

টাইমস অব ইসরায়েল যাত্রীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এক পাইলট অন্যজনকে ছুরিকাঘাত করেন। কিছু ইসরায়েলি যাত্রী ক্রুদের সঙ্গে মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন।

মিরিয়াম নামে এক যাত্রী চ্যানেল ১৫-কে বলেন, ফ্লাইটের ভেতরে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন তারা। ককপিটের দরজা খোলার পর ভেতরে রক্ত দেখতে পান। ছুরির আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে পাইলটের শার্ট রক্তে ভিজে যায়। তার ভাষ্য অনুসারে, ভাঁজ করা ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। পরে যাত্রী ও ক্রুরা মিলে সংঘর্ষ থামিয়ে দেন। একপর্যায়ে যাত্রীদের মনে হয়েছিল, হয়তো আর জীবিত বের হতে পারবেন না।

জেরুজালেম পোস্টকে আরেক যাত্রী জানিয়েছেন, দুই পাইলটের মধ্যে ঝামেলা চলছিল এবং বিমান দ্রুত নিচে নামছিল। তখন যাত্রীদের আসনে থাকা দুজন পাইলটই পরবর্তীতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদিতে জরুরি অবতরণ করান। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, দুই পাইলটের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের পর বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়। সবাই নিরাপদে আছেন।

ইত্তেফাক/এবিএস