৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেট থেকে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারীসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মেধার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে দাবি করে তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। এর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে ডাকসু।
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ডাকসু ভিপি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের ফৌজদারি অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ভেরিফিকেশনকে হাতিয়ার বানিয়ে যোগ্য ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল দাবিই ছিল চাকরির নিয়োগে কোটাসহ সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ। অথচ শহীদদের রক্তের বিনিময়ে দায়িত্ব নিয়ে সরকার বিগত আমলের মতো রাজনৈতিক দলীয়করণের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে, যা শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে অধিকারবঞ্চিত করার সামিল।
সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে সাদিক কায়েম বলেন, সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের কর্মে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। দেশে ব্যাপক বেকারত্ব থাকা সত্ত্বেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না করে উল্টো দলীয় প্রভাব বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় প্রভাব খাটানো এবং ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে মেধার বিকল্প তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ করতে গিয়ে সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষের ক্ষোভ ও ঘৃণা অগ্রাহ্য করলে পরিণতি ভালো হবে না।’ তিনি অবিলম্বে বিসিএস ও প্রাথমিক নিয়োগের ফলাফল পর্যালোচনা করে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।
এদিকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আজ ১ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ডাকসু। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
