কাফনের কাপড় পরে আন্দোলন

অবশেষে নিয়োগপত্র পেলেন ময়মনসিংহের ২০ শিক্ষক

 

 

 
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০২
কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় আন্দোলনের পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগপত্র পেয়েছেন ময়মনসিংহের বঞ্চিত ২০ প্রার্থী। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে এতদিন তাদের নিয়োগ আটকে ছিল।
 
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের নথি পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র ইতিমধ্যে ডাকযোগে নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ জেলা থেকে মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে ১৮ জন নির্ধারিত সময়ে কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে প্রথম দিকে ২১৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পুলিশ ভেরিফিকেশন ও সনদসংক্রান্ত জটিলতায় ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়।

এতে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় পড়েন সুপারিশপ্রাপ্ত এই প্রার্থীরা। নিয়োগের দাবিতে গতকাল বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় জড়িয়ে অবস্থান নেন তারা। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে এবং গতকাল রাতেই যাচাই-বাছাই শেষে ২০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে তালিকায় এখনো দুজন প্রার্থীর নাম আসেনি।

নিয়োগের চূড়ান্ত খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মোশাররফ হোসেন বলেন, “গত কয়েকটা দিন মনে হচ্ছিল আমাদের জীবনের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আজ মনে হচ্ছে নতুন জীবন ফিরে পেলাম। সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।” আরেক শিক্ষক হাসি আক্তার বলেন, “দীর্ঘ অনিশ্চয়তা শেষে আমরা নিয়োগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “নথিপত্রে ছোটখাটো ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের তথ্য পুনর্যাচাই করে ২০ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাঁরা দ্রুতই নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করবেন। তবে দুজনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি; মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এলে তাঁদের ব্যাপারেও পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ইত্তেফাক/আইএ