দুবার প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর ‘জীবিত’ টেনেসির সেই নারী, নেওয়া হলো হাসপাতালে

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৮

১৯৯৫ সালের এক হত্যাকাণ্ডের দায়ে ক্রিস্টা গেইল পাইকের শরীরে দুই ডোজ প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগের পরও বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির কারা কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ এটিকে নজিরবিহীন ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধের আবেদন করে দাখিল করা এক আবেদনে তার আইনজীবীরা এ কথা বলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দিতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করার পর এমন চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের প্রচেষ্টার পরও পাইক বেঁচে ছিলেন এবং তাকে জোরে জোরে নাক ডাকতে শোনা যায়। পরে কারাগার থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পাইকের এক আইনজীবী বিবিসিকে বলেন, শরীরে দুই সিরিঞ্জ পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগের পর হাসপাতালে পাইককে ‘জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ তবে এ বিষয়ে টেনেসি অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তারা বলেন, পাইক ‘চেতনা হারাননি এবং তার হৃদস্পন্দন তখনও ছিল’ এবং মৃত্যুকক্ষের পর্দা ‘দুবার নামিয়ে দেয়া হয়’।

১৮ বছর বয়সে করা হত্যাকাণ্ডের দায়ে ৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড বুধবার সকাল ১০টায় কার্যকরের সূচি নির্ধারিত ছিল। এটি কার্যকর হলে তা হতো টেনেসিতে ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা। তবে তা শুরুর ঠিক এক ঘণ্টা আগে একটি আপিল আদালত প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করা সাংবাদিকরা পাইকের নাক ডাকার শব্দ এবং ব্যথার অভিযোগের কথা জানান। তারা আরও বলেন, পাইক এতবার পা নাড়াচ্ছিলেন যে তার ওপর বিছিয়ে দেয়া চাদরও সরে যায়। কিছু সময় পর্দা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং সাংবাদিকরা কেবল শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন।

পাইককে যেখানে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কথা ছিল, সেই কারাগারে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেখা যায় এবং পরে সেটি চলে যায়। অনলাইনে থাকা ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, তাকে চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছিল।

বুধবার রাতে পাইকের আইনজীবীরা বলেন, তাকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল, তবে তার অবস্থা সম্পর্কে তারা জানেন না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

৫০ বছর বয়সী পাইক টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ডেথ রো-তে থাকা একমাত্র নারী। ১৯৯৫ সালে, যখন তার বয়স ১৮ বছর, তখন এক সহপাঠীকে হত্যার দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

ইত্তেফাক/এমএস