ভেজাল খাদ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি উদ্বেগ চিকিৎসকদের

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০

দেশে খাদ্যে ভেজাল ব্যাপকহারে বেড়েই চলেছে। জেল-জরিমানা করেও এটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এসব খাবার গ্রহণে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি, জন্মগত ত্রুটি ও জটিল রোগ নিয়ে জন্ম হচ্ছে শিশু। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের চিকিত্সকরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে ক্যানসার, কিডনি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র নষ্ট হওয়া, ডায়াবেটিসসহ সব ধরনের অসংক্রামক ব্যাধি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়া এর অন্যতম কারণ। এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রতিটি গ্রামে হাসপাতাল তৈরি করেও অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, রাজধানীসহ দেশব্যাপী ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। সচেতনতা না থাকায় এবং অতি মুনাফার লোভে কেমিক্যালসহ নানা বিষাক্ত সামগ্রী সংমিশ্রণে তৈরি খাদ্যসামগ্রী বাজারজাত করছে এক শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ী। শুধু জেল-জরিমানা করে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

সম্প্রতি বিরানিতে কেমিক্যাল, অপরিশোধিত লবণ, কাপড় তৈরির রং ও পোড়া তেল ব্যবহারের সচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যমে এসেছে। বিশিষ্ট চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এ ধরনের ভেজাল খাদ্য গ্রহণে কিডনি ও লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, জন্মগত ত্রুটির মতো অসংক্রামক ব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভেজাল খাদ্যসামগ্রীর কারণে গর্ভবতী মা ও তার পেটের শিশুর জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জটিল রোগ নিয়ে শিশু জন্ম হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে এলে অসংক্রামক ব্যাধি অনেক গুণ কমে যাবে বলে তার মত।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও গাইনি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, বিরানি জনপ্রিয় খাদ্য। সব স্তরের মানুষ খায়। নারীরাও পছন্দ করে। কেমিক্যাল, লবণ ও রং সংমিশ্রণে তৈরি বিরানিসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী গর্ভবতী মায়েরা খেলে জন্মগত ত্রুটি, লিভার ও কিডনি নষ্টসহ নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে শিশুর জন্ম হবে। বর্তমানে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশুর জন্মের হার অনেক বেশি। এটার অন্যতম কারণ এই ভেজাল খাদ্যসামগ্রী।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মহার বাড়ছে। এসব খাবার খেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি, লিভার ও কিডনি জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এতে অনেক শিশুর স্মরণশক্তি ক্ষতি হয় বলে তিনি জানান।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ সোয়েব বলেন, রাজধানীসহ দেশব্যাপী ১০ লক্ষাধিক খাদ্যসামগ্রী উত্পাদন ও বাজারজাতকারীদের তালিকা কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। ঐ তালিকা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ভেজাল খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। জেল-জরিমানা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভেজাল খাদ্যসামগ্রী সম্পর্কে জনসচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সাল থেকে টানা দুই বছর ইত্তেফাকে খাদ্যে ভেজাল নিয়ে ‘আমরা কী খাচ্ছি’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ সময় ভেজাল খাদ্যসামগ্রীর বিরুদ্ধে  নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে এ ধরনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

 
ইত্তেফাক/এএম