শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান রঞ্জনের রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানির আগে আদালতকক্ষে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের বাধা দেন। কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা এক উপপরিদর্শক (এসআই) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আপত্তি জানান। তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে না রাখার সিদ্ধান্ত আসামির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই নেওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় নেওয়া হয়।
শনিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অষ্টম তলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে নেওয়া হয়। তাকে আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হবে জানতে পেরে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তবে নিচতলা থেকে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে আদালতের সামনে পৌঁছাতে পারলেও এজলাসের প্রবেশপথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের আটকে দেন।
এর মধ্যেই আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন আখতারুজ্জামান। পরে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে এজলাস থেকে বের করে নেওয়া হয়।
এজলাস থেকে বের হয়ে স্টার নিউজের সাংবাদিক তসলিম হোসেন রনি বলেন, তিনি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে এসে এজলাসে অবস্থান করছিলেন। আখতারুজ্জামানকে বেলা পৌনে ১টার দিকে এজলাসে তোলার পর ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেল তাকে বাইরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আদালতের আদেশের কথা জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশ করতে না দেওয়া নিন্দনীয়। কিছু গোপন করার জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটাও আমি জানি না। ভবিষ্যতে যেন এভাবে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, শুনানিতে আখতারুজ্জামান বক্তব্য দিয়েছেন। সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকলে বিষয়টি ভালো হতো।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশের বিষয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি কোনো বাধা দেননি। তার ভাষ্য, শুনানির সময় আসামি প্রসিকিউশন, বিচারক ও পুলিশের প্রতি ‘মারমুখী’ আচরণ করছিলেন এবং আইনজীবী ছাড়া অন্য কেউ যেন আদালতে না থাকেন, এমন বক্তব্যও তিনি দিয়েছিলেন। পরে তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক সবাইকে বের হতে বলেন বলে দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামানের উচ্চবাচ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে তাকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?’
এ ঘটনায় শুক্রবার ভোরে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব।
আখতারুজ্জামান গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যোগ দেন। ওই দিন তিনি দলের ‘প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের’ ফরম পূরণ করেন।
এর আগে তিনি বিএনপির হয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মেজর রঞ্জন’ নামে পরিচিত। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারণে বিএনপি তাকে তিন দফা বহিষ্কার করেছিল।
সূত্র: বিডিনিউজ২৪
