মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাত ও কর্মসংস্থানই অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৩

মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে জিডিপির অনুপাতে কর আদায় প্রয়োজনের তুলনায় কম, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি করেছে। অপরদিকে, জিডিপির অনুপাতে কর আদায় প্রয়োজনের তুলনায় কম। ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে ন্যায্য, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ ফল নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এক দিনে সব ঠিক হবে না, কিন্তু এই লক্ষ্যে আমরা অবিচল থাকব।’

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে এসেছে এবং গত দশকের তুলনায় অর্থায়নের খরচ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্ক-বাধা বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও অস্থির রয়েছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়ছে।

আমদানিনির্ভর ও রফতানিমুখী অর্থনীতি হওয়ায় এসব বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার ও রফতানি আদেশে এর প্রভাব দেখা যায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ে আমাদের প্রতিটি দিনই সারপ্রাইজ এলিমেন্টের দিন। বাজেট তৈরি হয় এক অনুমানের ওপর—তারপর আসে জ্বালানির দামের ধাক্কা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বন্যা, কিংবা বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা।’

তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরণের সময়সূচি যা-ই হোক, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের রপ্তানি খাতকে প্রস্তুত করতে হবে। শুধু বাণিজ্যসুবিধার ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
 

নীতিনির্ধারণে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অসম্পূর্ণ তথ্য ও সীমিত সময়ের মধ্যেই জনগণের কাছে জবাবদিহি রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

‘ইকোনথন ২০২৬’-এ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া, চাপের মধ্যে চিন্তা করা এবং যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরার সক্ষমতা নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

 
ইত্তেফাক/এমএসআর