ইসলামে বিয়েকে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয়, কেননা তা চক্ষুকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করে।’ (বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (তাবরানি, হাদিস: ৯৭২)
ইসলামী শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১১০১) একই সঙ্গে বিয়ে গোপন না রেখে তা প্রকাশ করার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, গোপন বিয়েকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য ইজাব ও কবুল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, বিয়ের প্রস্তাব ও তা গ্রহণের মাধ্যমে বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হতে হয়। এ সময় সাক্ষীর উপস্থিতিও প্রয়োজন। ফকীহ আলাউদ্দিন কাসানী (রহ.) বলেছেন, বিয়ের মূল ভিত্তি হলো ইজাব ও কবুল। নির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো পদ্ধতিতে এটি সম্পন্ন হতে পারে।
এ কারণে শুধু একজন পুরুষ ও নারী নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে—এমনটি ইসলামী শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন, কোনো পুরুষ সাক্ষীদের সামনে কোনো নারীকে ‘আমার স্ত্রী’ এবং নিজেকে ‘তার স্বামী’ বলে পরিচয় দিলেন, একইভাবে নারীও তাকে ‘আমার স্বামী’ বললেন—তাতেও বিয়ে সংঘটিত হবে না, যদি এর আগে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিয়ের চুক্তি সম্পন্ন না হয়ে থাকে।
ফকীহ ইবনু নুজাইম (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিয়ে ইজাব ও কবুলের সঙ্গে সম্পর্কিত। শুধু স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়াকে নতুন বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা যায় না।
তাই কোনো পুরুষ ও নারী জনসম্মুখে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও, বাস্তবে শরিয়তসম্মত ইজাব-কবুল না হলে তাদের মধ্যে বিয়ে সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
তবে বিয়ে না হলে নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্কের সুযোগ নেই। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস ইসলামে নিষিদ্ধ। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা জিনার কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীলতা এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৩২)
এই আয়াতে শুধু জিনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়নি; বরং জিনার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে—এমন কাজ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিসেও চোখ, কান, জিহ্বা, হাত ও পায়ের মাধ্যমে সংঘটিত ‘জিনা’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২৪৩)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো পুরুষ যখন কোনো গায়রে মাহরাম নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রিত হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৬৫)
সুতরাং ইসলামী শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু সামাজিকভাবে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়া যথেষ্ট নয়। বিয়ের নির্ধারিত নিয়মে ইজাব-কবুল ও প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতিসহ বৈধ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে বিয়ের আগে নারী-পুরুষের বিবাহবহির্ভূত ও অনৈতিক সম্পর্ক থেকেও বিরত থাকা জরুরি।
