খুলনায় মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে গোলাগুলির পৃথক দুটি ঘটনা ঘটেছে। এতে দিঘলিয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. নাসিমুল করিম ওরফে নাসিম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে নগরীর লবণচরা এলাকায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মো. ইকবাল শেখ নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলায় দৃর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত মো. নাসিমুল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি দল পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (জনযুদ্ধ) সদস্য। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ সাতটি মামলা রয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে তাকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাসিম ফরমায়েশখানা গ্রামের তৈয়ব আলী শিকদারের চায়ের দোকানের সামনে বসেছিলেন ইকবাল শেখ। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুইজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে দিঘলিয়া থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুম বলেন,
নিহত নাসিমের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি দল পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (জনযুদ্ধ) সদস্য ছিল। তবে কারা কী কারণে নাসিমকে হত্যা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে ওসি জানান।
বিএনপি নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে জখম
অন্যদিকে একই দিনে খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. ইকবাল শেখ (৩৫) নামে একজন আহত হয়েছেন।
রোববার সকাল সোয়া ৭টার দিকে নগরীর নগরীর হঠাৎ বাজারের ইসলামপাড়া প্রথম গলির সামনে এ ঘটনা ঘটে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ইকবাল শেখ ইসলামপাড়ার ইকলাছ শেখের ছেলে ও নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একই এলাকার আলামিন শেখের ছেলে মো. আবির শেখের সঙ্গে ইকবালের শেখের মেয়ের বিয়ে হয়। ৩/৪ মাস আগে তিনি মেয়েকে ওই ছেলের কাছ থেকে ছাড়িয়ে রাখেন। এ নিয়ে উভয় পরিারের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। রোববার সকালে ইকবাল ব্যক্তিগত কাজে বাড়ি থেকে বের হলে আবির, শাওনসহ আরও চারজন তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা তার বাম পায়ের হাঁটুর ওপর গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ের গোড়ালিতে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জাড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। ভিকটিম আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানান ওসি।
