প্রসিকিউটর তামিম

আমু-দীপু মনিসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ শিগগির

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১০

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের নামে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উপদেষ্টাসহ আওয়ামী লীগের ১০ নেতার বিরুদ্ধে শিগগির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

রোববার (৪ অক্টোবর) জুলাই-আগস্টের বিচার নিয়ে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

আটক ও পলাতক আসামিদের বিচার নিয়ে ওঠা অভিযোগ নাকচ করে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামি পলাতক না আটক—বিচার বা সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। তদন্তে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালই আসামির সাজা নির্ধারণ করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর আইন সংশোধন করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে দুটি ট্রাইব্যুনালে সাতটি মামলার রায় হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দেওয়া হয়। এরপর অভিযোগ প্রমাণে সাক্ষীর জবানবন্দি, নথিপত্র ও ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। অপরাধের মাত্রা ও প্রমাণের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল সাজা নির্ধারণ করেন।

বর্তমান ট্রাইব্যুনালে কোনো আসামিকে ঢালাওভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, কারও তিন বছর, কারও সাত বছর, কারও ১০ বছর, কারও যাবজ্জীবন আবার কারও মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, আগের ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় ৯৯ শতাংশের বেশি আসামি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং মৃত্যুদণ্ডের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। বর্তমান প্রক্রিয়ায় অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন সাজা দেওয়া হচ্ছে।

আটক থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে এখনো ফরমাল চার্জ দেওয়া হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউশন জানায়, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে হাতে এসেছে এবং ফরমাল চার্জও প্রায় প্রস্তুত।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, ফারুক খান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে শিগগির ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে।

সাংবাদিকদের আসামি করার বিষয়ে প্রসিকিউটর বলেন, তাদের পেশা বিবেচনায় নিয়ে আসামি করা হয়নি। তদন্তে নির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারণেই তাদের আসামি করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন—এমন তথ্য-প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে সব সাংবাদিককে আসামি করা হয়নি; যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি প্রসিকিউশনের।

প্রসিকিউশন আরও জানায়, আসামিরা আদালতে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাজা হবে, আর প্রমাণিত না হলে খালাস পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস