নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা

মামলা করতে গিয়ে থানায় অবরুদ্ধ হওয়ার দাবি এনসিপির

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫২

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এজাহার দিতে গিয়ে থানায় অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন দলটির ১৭ নেতাকর্মী। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশ ঘিরে রাখায় তারা সেখানে আটকা পড়েছিলেন বলে দাবি এনসিপির।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে কুমারখালী থানায় এজাহার দিতে যান এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি, সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহাসহ ১৭ নেতাকর্মী।

জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, রাত হওয়ায় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মামলার কাগজ প্রস্তুত করতে পারছিলেন না। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতা চাইলে তিনি থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার কথা বলেন। তবে পরে নানা টালবাহানা করে শেষ পর্যন্ত তা লিখে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

টনির দাবি, একপর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশ ঘিরে ফেললে তারা ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশি পাহারায় তারা কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছান। তাদের ওপর মব হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপির জেলা সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা নিতে নানা অজুহাত দেখিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রথমে মামলা লিখে দেওয়ার কথা বলা হলেও রাত ১২টার দিকে জানানো হয়, থানায় মামলা লেখা সম্ভব নয়। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের থানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

থানায় দুই শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ঢুকে তাদের উদ্দেশে স্লোগান দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তালহা। এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে তিনি বলেন, হামলায় কারা জড়িত, তা ফুটেজে দেখা যাবে।

তবে এনসিপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিনও এনসিপির নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, থানার ভেতরে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা ছিলেন। তবে কাউকে অবরুদ্ধ করা হয়নি।

মামলা না নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে ওসি বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীরা লিখিত এজাহার নিয়ে এলে তিনি মামলা নিতেন। কিন্তু তারা এজাহার লিখে নিয়ে আসেননি। থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে প্রথমে তিনি ছিলেন না। হামলার ধরন বা কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত না থাকায় নিজের পক্ষ থেকে মামলা লিখে দেওয়ার সুযোগ নেই।

এনসিপির নেতাকর্মীদের পুলিশি পাহারায় কুষ্টিয়া পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ওসি বলেন, তারা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালে পুলিশ প্রটোকল দিয়ে তাঁদের কুষ্টিয়া শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লালন আখড়াবাড়ি থেকে গান শুনে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কাচ ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মাজার এলাকা থেকে বের করে আনা হয়। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/এসএ