রাবিতে ছাত্রদলের হামলা

ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীরা ‘চিহ্নিত’, তবু অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদলের হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ও শিক্ষকরা। এর প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, গত রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে মানহানিকর পোস্ট দেওয়া নিয়ে উত্তেজনার জেরে কয়েকজন শিক্ষার্থী হলের ২১৪ নম্বর কক্ষ তল্লাশি করেন। পরে হল থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা ভিডিও করতে গেলে তাদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়।

তবে হামলায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ ও সুনির্দিষ্ট পরিচয় থাকা সত্ত্বেও এবং গণমাধ্যমে নাম প্রকাশ হওয়ার পরও মামলায় সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করায় প্রশ্ন তুলেছে সাংবাদিক ও শিক্ষক সমাজ। তাদের অভিযোগ, কোনো বিশেষ ছাত্রসংগঠন বা আসামিদের বাঁচানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই দীর্ঘসূত্রিতা করছে।

অজ্ঞাতনামা মামলার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো—ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা করা এবং দ্রুত গ্রেপ্তার করা, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আজই সাময়িক বহিষ্কার করা, আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে শুক্রবারের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, যাঁদের ছাত্রত্ব নেই তাদের সনদ বাতিল ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করে সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেওয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং হামলার সময় উপস্থিত থেকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালনের দায়ে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগ করা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ইত্তেফাক/এএম