শরীয়তপুরের জাজিরায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা কসটেপে মোড়ানো একটি ককটেল খেলনা বল মনে করে হাতে তুলে নেওয়ার পর মাটিতে ফেলতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. কামরুল (১৪) নামে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানাধীন পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ফেদুল্লা বেপারী কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত কামরুল ওই এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে। বিস্ফোরণে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জুনায়েদ স্কুলে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে কসটেপ দিয়ে মোড়ানো একটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখে খেলনা বল মনে করে সেটি হাতে তুলে নেয়।
এ সময় তার সহপাঠী মো. কামরুল (১৪) বিষয়টি দেখতে পেয়ে জুনায়েদের কাছে জানতে চান, তার হাতে কী রয়েছে। পরে দুজন বিষয়টি জুনায়েদের দাদি নাসিমা বেগমকে দেখালে তিনি সেটিকে ককটেল বোমা বলে জানান।
এতে আতঙ্কিত হয়ে জুনায়েদ ককটেলটি হাত থেকে ফেলে দেন। মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কাছাকাছি থাকা কামরুল গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা কামরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশ রাস্তার পাশে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা দুটি ককটেল উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে আরও কোনো ককটেল বা বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে বসতবাড়ির পাশে ককটেল পড়ে থাকা এবং বিস্ফোরণে এক কিশোর আহত হওয়ার ঘটনায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুজ্জামান বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে এক কিশোর আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে রাস্তার পাশে অরক্ষিত অবস্থায় আরও দুটি ককটেল পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে আরও কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহত কিশোরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
