প্রেম, বিরহ কিংবা ত্রিকোণ প্রেমের গল্পে নাটক, সিনেমা ও ওয়েব ফিল্মে কমতি নেই। তবে বিয়ের পর একটি দম্পতির জীবনে কী ঘটে, সেই গল্প পর্দায় তুলনামূলকভাবে কমই দেখা যায়। সেই ভাবনা থেকেই তরুণ নির্মাতা জাহিদ প্রীতম নির্মাণ করেছেন ওয়েব ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’।
বুধবার মুক্তির আগে সোমবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর বিশেষ প্রদর্শনী। এতে উপস্থিত ছিলেন ওয়েব ফিল্মটির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল।
সিনেমাটির গল্প যেহেতু দাম্পত্য জীবনকে ঘিরে, তাই শুভর কাছে জানতে চাওয়া হয়—বিবাহিত জীবনে সুখী থাকার রেসিপি কী? হাসতে হাসতে অভিনেতা বলেন, “ম্যারিড লাইফে হ্যাপি থাকার রেসিপি হচ্ছে, প্রত্যেক সপ্তাহে একবার করে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ দেখতে হবে। শুক্রবার দিন সকালবেলা উঠে এটি একবার করে দেখতে হবে, তাহলেই হ্যাপি ম্যারিড থাকতে পারবেন।”
তবে বাস্তব জীবনের বিয়ে আর পর্দার গল্পের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শুভ। তিনি বলেন, ‘পর্দার বাইরে বিয়ের বিষয়টা আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বিশেষ করে বাস্তব জীবনের বিষয় পুরো আলাদা। এটুকু বলতে পারি, আজ যারা সিনেমাটি দেখলেন, এখানে একটি ডায়ালগ আছে—‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ বা দাম্পত্যজীবন শুরু হয় হ্যাপি শব্দটি ফুরিয়ে গেলে। আমাদের এই সিনেমায় দাম্পত্যজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় উঠে এসেছে। আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে।’
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। বিশেষ প্রদর্শনীতে দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। পরে ক্ষমা চেয়ে নিজের প্রথম ওয়েব ফিল্মের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।
কেয়া পায়েল বলেন, ‘এটা আমার প্রথম ফিল্ম। অসাধারণ একজন পরিচালক পেয়েছি। তার থেকে আনন্দের বিষয় হলো, আমার সঙ্গে আমার হিরো আরিফিন শুভ ভাইয়া ছিলেন। সব মিলিয়ে আমার কাছে এটা খুবই স্বপ্নের মতো একটি প্রজেক্ট। যে প্রজেক্টটির জন্য আসলে আমি এত দিন অপেক্ষা করেছি।’
চরিত্রটি পর্দায় যথাযথভাবে তুলে ধরতে নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন জানিয়ে কেয়া বলেন, ‘আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি কাজটি ভালোভাবে করার, চরিত্রটি ভালোভাবে করার। বাকিটা আমি চাইব, আমার দর্শক, যারা আমাকে ভালোবাসে, তারা দেখুক। বাকি বিবেচনা তারা করুক।’
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর গল্প নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘হ্যাপিলি ম্যারিডের পরের গল্পটা কী—আমরা তো ওই বিয়ের পরে হ্যাপিলি ম্যারিড হয়ে গেলাম, এর পরের চ্যাপ্টারটা কী, সেটা নিয়ে কি আমরা আদৌ ভাবি? ওই চ্যাপ্টারটা নিয়েই আসলে আমাদের গল্প।’
নিজের বিয়ে নিয়েও নানা ভাবনা রয়েছে বলে জানান কেয়া পায়েল। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই নিজের বিয়ে নিয়ে একটা ফ্যান্টাসি থাকে। কারণ, জীবনের এত বড় একটা সিদ্ধান্ত বিয়ে। আমার মনে হয়, অনেক বুঝে-শুনে, অনেক চিন্তা করে, আয়োজন করে মানুষ বিয়ে করে। আমার নিজেরও অনেক চিন্তা আছে। তবে তার আগে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ আসুক। এটা দেখে মানুষ কী বলে, সেটা দেখি।’
বাস্তব জীবনে কবে বিয়ে করবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কেয়া বলেন, ‘আমি সব সময় ভাগ্যে বিশ্বাসী। ভাগ্যে যখন লেখা আছে, যার সঙ্গে লেখা আছে, আমি চাইলেও এটা ফেরাতে পারব না। বিয়ে তখন হয়েই যাবে। বিয়ে নিয়ে এত কিছু ভাবি না। শুধু এটাই ভাবি যে জীবনে এমন একজন মানুষকে চাই, যাকে নিয়ে সারাটা জীবন একসঙ্গে থাকতে পারি।’
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও সম্মানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘বিয়ে বা সম্পর্কে সবচেয়ে বড় দরকার হচ্ছে বিশ্বাস এবং দুজন মানুষের মধ্যে সম্মান। বিশ্বাস আর সম্মান।’
বিয়ের পর নানা ধরনের সমস্যা আসা স্বাভাবিক বলেও মনে করেন কেয়া। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পরে যেকোনো সমস্যা তো হতেই পারে এবং সমস্যা হবে, এটা খুব স্বাভাবিক। সেই সমস্যাগুলোকে ফেস করে সেটা নিয়ে আসলে সারাটা জীবন পার করাটাই আমার মনে হয় বিয়ে।’
দাম্পত্য জীবনে দায়িত্বের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। কেয়া বলেন, ‘বিয়ের পরে দায়িত্বটা অনেক থাকে। ভালোবাসা, কেয়ারের থেকেও বেশি দায়িত্ব। সেই দায়িত্বটা পালন করাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ বিয়ের পরের জীবনের একটি সুন্দর যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান কেয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় চিন্তা করি, বিয়ে হ্যাপিলি হবে। ম্যারিড তো আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর একটি অধ্যায়। এখানে একটা সুন্দর জার্নি আছে গল্পে। আমি চেষ্টা করেছি আমার পরিচালক যেভাবে চরিত্রটি চিন্তা করেছেন, তাঁর ভাবনার মতো করে চরিত্রটি করার।’
আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল ছাড়াও ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছেন দীপা খন্দকার, অভিনেতা-নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু, আরেফিন জিলানীসহ আরও অনেকে।
