বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়তই মানুষের যাতায়াত। তার মধ্যে বেশকিছু জায়গা রয়েছে যেগুলোর নাম শুনলেই গা ছমছম করে! অনেকে সেই জায়গাগুলো থেকে দূরে থাকেন। আবার অনেকের আগ্রহের শীর্ষে থাকে সেই নিষিদ্ধ জায়গাগুলোই। সেটা নির্ভর করে সাহসিকতার ওপর। এমন কয়েকটি জায়গার তথ্য এই লেখাটিতে বলা হয়েছে। লিখেছেন
আশিক রিজভী
চাঙ্গি বিচ
চাঙ্গি বিচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহূত একটি জায়গা। ‘সোক চিং’ যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার সময় জাপানিরা নিজেদের বিরোধী ভেবে অনেক নিরীহ চীনা নাগরিককে হত্যা করেন। তারপর তাদেরকে এখানে কবর দেন। আর সেই থেকে এই জায়গাটি হয়ে ওঠে ভূতুড়ে। এখানে রাত হলেই শুরু হয় অবাস্তব সব ভূতুড়ে কাজ-কারবার। কাছাকাছি দাঁড়িয়ে শুনলে মনে হয় দূর থেকে কিছু মানুষ কান্না করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে আসছেন। অনেক পর্যটক কিছু না জেনে এখানে রাতের বেলা ঘুরতে আসেন, আর ফেরার সময় অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন। এখন পর্যন্ত প্রায় হাজারখানেক মানুষ এমন কান্নাকাটি শোনার কথা স্বীকার করেছেন।
হাইগেট সমাধিক্ষেত্র
ইংল্যান্ডের অবস্থিত হাইগেট সমাধিক্ষেত্র। রাত হওয়ার সাথে সাথে পাল্টে যায় এই জায়গাটির গল্প। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতিরাতে এখানে মস্তকবিহীন একটি লাশ কবরের ভেতরে ঢোকে এবং কিছুক্ষণ পর তা আবার বাইরে বের হয়ে আসে। মস্তকবিহীন লাশটির সর্বাঙ্গে লতাপাতা জড়ানো থাকে, আর তার গঠন এক্কেবারে অন্যরকম। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এখানকার তাপমাত্রা সবসময়ই বাইরের থেকে অস্বাভাবিকভাবে কম থাকে।
ওহিও ইউনিভার্সিটি
আমেরিকার সবচেয়ে ভূতুড়ে জায়গাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওহিও ইউনিভার্সিটিটি। এখানে বহু পুরোনো পাঁচটি সমাধি আছে, যা কি-না একটি পঞ্চভুজ তৈরি করে রেখেছে। সমাধিগুলো যে ঠিক কতটা পুরোনো তা কেউই সঠিকভাবে বলতে পারেন না। আর এখানে অনেক পুরোনো একটি মানসিক রোগীদের চিকিত্সা দেওয়ার জন্য ল্যাব ছিল। শোনা যায়, সেখানে চিকিত্সারত মানসিক রোগীদেরকে ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া হতো। কিন্তু পরবর্তীতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় যে, সন্ধ্যা হওয়ার পর এখানে নাকি অদ্ভুতরকমের সব চেঁচামেচির আওয়াজ শোনা যায়। যার ফলে, প্রচণ্ড ভয়ের কারণে সেখানে কেউই যেতে সাহস করেন না।
ভাঙ্গার দুর্গ
ভারতের রাজস্থানের পাশে অবস্থিত ভাঙ্গার দুর্গ। এই জায়গাটির ওপর নাকি অনেক অভিশাপ আছে। আজ থেকে অনেকবছর আগে কোনো একজন ঋষি এই জায়গাটির ওপর অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, ‘যারা এখানে মারা যাবে তাদের আত্মা সারাজীবন এখানেই বন্দি থাকবে।’ সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, এখানকার কোনো বাড়িরই ছাদ নেই। কারণ যখনই কেউ তার বাড়ির ছাদ তৈরি করে, ঠিক তার কিছুক্ষণের মধ্যেই নাকি সেগুলো ভেঙে পড়ে যায়। এখানে সন্ধ্যার পরে কেউ যাওয়ার সাহস পায় না। আজ পর্যন্ত যত পর্যটকই এখানে সন্ধ্যার পরে গেছেন তারা আর ফিরে আসেননি এবং সেই সকল হারানো পর্যটকদের ভাগ্যে আসলে কি ঘটেছিল তাও জানা যায়নি। তাই এখনকার সরকার সন্ধ্যার পরে সেখানে যেতে পুরোপুরি নিষেধ করে দিয়েছে।
স্ক্রিমিং টানেল
কানাডার একটি শহরে অবস্থিত স্ক্রিমিং টানেল। এখানকার মানুষরা বলেন, আপনি যদি এই টানেলের ভেতরে একটি ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালান তবে সেই আগুনের গোলা টানেলের বাইরে চলে যাবে। আর সাথে সাথে আপনি একটি ছোট্ট মেয়ের চিত্কার দেওয়ার আওয়াজ শুনতে পাবেন, যা খুবই ভয়ানক। আজ পর্যন্ত কেউই সেই ছোট্ট মেয়ের চিত্কার দেওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে পারেননি। যত পর্যটকই এই জায়গাটি দেখার জন্য যান, এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা সব সময় তাদেরকে সেখানে যেতে নিষেধ করে দেন।
প্রাচীন রাম হোটেল
আপনি যদি ভূতের ঘটনার ওপর একেবারেই বিশ্বাস না করে থাকেন তাহলে ঘুরে আসতে পারেন ইংল্যান্ডের এই হোটেলটি থেকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হোটেলটিতে সব সময় কেমন যেন একটা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ বিরাজ করে, আর জায়গাটি সব সময় খুবই কদাকার একটি গন্ধে ভরে থাকে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই হোটেলটি একটি কবরের ওপর তৈরি করা হয়েছে। আর এখানকার সবারই ধারণা যে, এজন্যই এখানকার পরিবেশ এমন ভূতুড়ে ধরনের।
মন্টে ক্রিস্টো
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ‘মন্টে ক্রিস্টো’ নামের একটি বাড়ি। এই বাড়ির মালিক মিসেস ক্রাওলি তার স্বামীর মৃত্যুর পরবর্তী ২৩ বছরে মাত্র দু-বার বাড়ির বাইরে বের হয়েছিলেন এবং তার মৃত্যুর পর আজো নাকি তাকে এই বাড়িতেই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এই বাড়ির ভেতর থেকে যারা ঘুরে এসেছেন তাদের মুখ থেকে এর সত্যতা মেলে। তারা বলেন, বাড়ির ভেতরে গেলে মনে হয় কে যেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছে আছেন, কিন্তু হুট করেই তা আবার মিলিয়ে যায়! ঘটনাটি এতোটাই দ্রুত ঘটে যে, কিছুক্ষণের জন্য একবারে থ মেরে যেতে হয়। তারা আরো বলেন, যখন তারা ক্রাওলির ঘরে প্রবেশ করেন তখন প্রত্যেকে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির ভেতরে ছিলেন এবং তাদের মনে হচ্ছিল যেন তাদের সারা গায়ে কেমন রক্তবর্ণ দেখা দিচ্ছে। পরবর্তীতে যখন তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন তখন সবকিছু আবার পূর্বের মতো স্বাভাবিক হয়ে যায়।
এডিনবার্গ দুর্গ
স্কটল্যান্ডেরই একটি খুবই পরিচিত নাম এডিনবার্গ দুর্গ। স্থানীয়দের মতে, এই অসাধারণ দুর্গে ভূত দেখা গেছে অনেকবার এবং এখানে যেসব পর্যটক ঘুরতে এসেছেন তারাও এই বিষয়টি স্বীকার করেছে। জানা যায়, ফরাসি যুদ্ধ চলার সময় এখানে অনেক বন্দিকে হত্যা করা হয়েছিল এবং সেজন্যই পরবর্তীতে এই জায়গাটি হয়ে ওঠে অভিশপ্ত এবং ভূতুড়ে!
