কবিতায় শ্রাবণ সন্ধ্যা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩৫

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্মিলিত আবৃত্তি জোটের ‘কবিতায় শ্রাবণ সন্ধ্যা’। অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচকরা বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ এ দু-মাস দেশের কৃষিজীবী মানুষের ব্যস্ততার মাস, তাদের চাষাবাদের মাস। প্রকৃতিও তখন জলে-বাদলে ভরপুর থাকে। এ সময় অঝরধারায় বৃষ্টি ঝরিয়ে মাঠকে কর্ষণের উপযোগী করে মানুষের অন্ন ফলানোর কাজেই বেশি মশগুল থাকে প্রকৃতি। পাশাপাশি এই আষাঢ়-শ্রাবণকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ থেকে রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। প্রকৃতির মতো কবি-সাহিত্যিক তথা সৃজনশীল মানুষ মাত্রই এ সময় হয়ে ওঠেন আরো বেশি সৃষ্টিশীল।

সম্মিলিত আবৃত্তি জোটের সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী অঞ্চল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অতিথি আলোচক হিসেবে শ্রাবণ নিয়ে আলোকপাত করেন কবি ও সাংবাদিক এজাজা ইউসুফী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আবৃত্তি জোটের সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাঈফ চৌধুরী।

কবি এজাজা ইউসুফী বলেন, বর্ষা ঋতু প্রকুতিতে যেমন পরিবর্তন আনে তেমনি মানুষের মনোদৈহিক পরিবর্তনও ঘটায়। মানুষের আবেগ-অনুভূতিকে নাড়া দেয় ভিন্ন এক নৈর্ব্যত্তিক ব্যঞ্জনায়।

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক শক্তিকে উজ্জীবিত করে বর্ষা। গ্রামীণ কৃষিজ অর্থনীতি নির্ভর এই দেশে একবার বা এক বছর যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা থাকে। তাই বর্ষা বা শ্রাবণকে আমরা লালন করি, পালন করি অন্তরের তাগিদ থেকে। নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু বলেন, বর্ষা ঋতু তথা আষাঢ়-শ্রাবণ আমাদের অর্থনীতিকে যেমন সমৃদ্ধ করে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকেও সমৃদ্ধ করে প্রতিবছর নবরূপে ও আঙ্গিকে। সৃজনশীল কবি-সাহিত্যিকরা প্রকৃতির নির্যাস থেকে রসদ সংগ্রহ করে অসাধারণ শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেন।

আবৃত্তি জোটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শ্রাবণের কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী সুচন্দা চৌধুরী, তৈয়বা জহির আরশি, শাহরিয়ার তানজিম, শারমিন মুস্তারি নাজু, বনকুসুম বড়ুয়া,  সাবের শাহ, আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল, আল ইমরান, শাহীনুর আক্তার, পুনম দত্ত, দীপা দাশ মিতু, সুমি বিশ্বাস, সেঁজুতি দে,  জীবন বড়ুয়া, অবন্তিকা দাশ কুঞ্জ, সাজিয়া আফরিন প্রাপ্তি, হিসামুর রহমান, অনন্যা চৌধুরী, মিশু ভট্টাচার্য্য, ইকবাল হোসেন জুয়েল ও অনির্বাণ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে শ্রাবণ ও বর্ষার গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী অপু বর্মণ, করবী দাশ ও কান্তা দে।