প্রতিদিনের সহজ ডায়েট প্ল্যান: সুস্থ থাকতে সকালে ১০ মিনিটের পরিকল্পনা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কেবল ওজন কমানো কিংবা কঠোর কোনো ডায়েট মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দৈনন্দিন খাবার নির্বাচনের ওপরই নির্ভর করে সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। দীর্ঘকাল সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে প্রতিটি খাবারের পুষ্টিগুণের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে অঞ্জলি মুখার্জি জানান, প্রতিদিন সকালে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে সারাদিনের—সকালের নাশতা, দুপুরের আহার ও রাতের খাবারের পরিকল্পনা সাজিয়ে নেওয়া উচিত। এই ছোট্ট অভ্যাসটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিবিদের নির্দেশিত দৈনিক খাদ্য পরিকল্পনা:
  • সকালের নাশতা: ঘুম থেকে উঠে শুরুতেই কয়েক গ্লাস পানি পান করতে হবে। আমিষভোজীদের জন্য সেদ্ধ ডিম এবং নিরামিষভোজীদের জন্য অঙ্কুরিত শস্য (স্প্রাউটস) আদর্শ। এর সঙ্গে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এক গ্লাস তাজা সবজির জুস যুক্ত করা যায়।
  • দুপুরের খাবার ও বিকেল: দুপুরে আটার রুটি ও পছন্দের সবজির সঙ্গে নিরামিষভোজীরা ডাল এবং আমিষভোজীরা মাছ বা মুরগির মাংস রাখতে পারেন। এরপর বিকেলে হালকা নাশতা হিসেবে ছোলা ও গ্রিন টি গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • রাতের খাবার: রাতে হালকা অথচ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। এ সময় মাছ বা চিকেনের সঙ্গে স্যুপ ও ফ্রেশ সালাদ অথবা রুটি, সবজি, ডাল ও সালাদের সংমিশ্রণ রাখা যায়।
পুষ্টিবিদ মুখার্জির মতে, এভাবে ভারসাম্য বজায় রাখলে শরীর সহজেই পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পলিফেনল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
প্রতিদিনের সঠিক খাদ্যাভ্যাস হজমশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ অসুস্থতা প্রতিরোধে শরীরে সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। বিপরীতে অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, অপুষ্টি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

খাবার কেবল শরীরের ওপরই নয়, মেজাজ ও মনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার মানসিক প্রফুল্লতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার শরীরকে ক্লান্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হতাশা ও মানসিক অবসাদ বাড়িয়ে দেয়।
ইত্তেফাক/আইএ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন