কাশফুলের শুভ্র আভা ও দৃষ্টিনন্দন রূপ যে কারো নজর কাড়বে এতে সন্দেহ নেই। আর শরত্ ঋতু মানেই আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা ও কাশের বনে সাদা কাশের অপরূপ মেলা। শরত্ ঋতুর আগমনি বার্তা নিয়ে প্রকৃতিকে আরো মায়াবী রূপে সাজাতে কাশফুল যেন বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করে না।
শরতে বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র খাল, বিল, নদীর তীরে এবং চরাঞ্চলের অবারিত মাঠ জুড়ে রেশমি সাদা কাশফুল ফোটে। ফুল ঊর্ধ্বমুখী ও গন্ধহীন। মঞ্জরি বেশ লম্বা। ফুটন্ত ফুল দীর্ঘদিন ধরে সৌন্দর্য বিলিয়ে যায়। শরত্কাল জুড়ে এই ফুল ফোটে।
কাশ তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ, এর উচ্চতা গড়ে ৫ থেকে ১০ ফুট হয়ে থাকে। কাণ্ড ফাঁপা ও কাণ্ডে গিঁট থাকে। এর পরিবার Gramineae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Saccharum spontaneum। গাছ বেশ কষ্ট সহিষ্ণু, খরা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করেও নিজেদের বংশ বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখতে সক্ষম। গাছ একত্রে ঝোপালোভাবে জন্মে। এর চিকন পাতা বেশ লম্বা, বর্ধনশীল গাছের পাতার রং গাঢ় সবুজ হয়, যা খসখসে প্রকৃতির। গাছ বর্ধনশীল পর্যায়ে ফুল ফোটার পূর্ব পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গো-খাদ্য হিসেবে বিশেষ সমাদৃত এবং পরবর্তী সময়ে রান্নার কাজে, ঘরের চালে ও বেড়ায় ব্যবহূত হয়। তাছাড়া চাহিদা থাকাতে এর বাজার মূল্যও রয়েছে। এছাড়া খাল-বিল নদী তীরবর্তী এলাকায় পাড়ের ভাঙন ও মাটির ক্ষয়রোধে ভূমিকা রাখে। সাধারণত শিকড় কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার ঘটে।
