শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। দেশের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানার কয়েক ঘণ্টা পরই যেন বোঝা গেল, জার্সিটি থেকে দূরে সরে যাওয়াটা তার জন্যও সহজ নয়। মেসি নিজেই জানালেন, নীল-সাদা জার্সিটাকে তিনি ইতিমধ্যে মিস করতে শুরু করেছেন।
বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচ শেষে মেসির আবেগ আরও গভীর হয়েছে। বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরও মেসির বলার মতো কিছু যেন বাকি ছিল। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরে গিয়ে নিজের অনুভূতিগুলো লিখেছেন তিনি। সেখানেই জানিয়েছেন, শেষ ম্যাচ খেলার পরই নীল-সাদা জার্সির অভাব অনুভব করছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি তিনি সঠিক বলেই মনে করছেন।
মেসির কাছে এই যাত্রা ছিল আনন্দ ও বিষাদে ভরা। পথটি সবসময় সহজ ছিল না। কিন্তু ফিরে তাকিয়ে তার মনে হয়েছে, প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল মূল্যবান। জাতীয় দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক যে শুধু মাঠের সাফল্য দিয়ে তৈরি হয়নি, সেটিও পরিষ্কার তার বিদায়ী কথাগুলোতে। এই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্যর্থতা, অপেক্ষা, সমালোচনা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত সেই সাফল্য, যার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
বিদায়ী বার্তায় মেসি তার পরিবারের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন। তার মতে, পরিবারের সমর্থন ছাড়া এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হতো না। কঠিন সময়গুলোতে তারাই পাশে থেকেছে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনে পরিবারের ভূমিকা তাই তার কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে আলাদা। বিদায়ের রাতেও বাবা হোর্হে মেসির অনুপস্থিতি তাকে নাড়া দিয়েছে।
বন্ধু, সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেসি। একই সঙ্গে তার কথায় এসেছে এমন একজনের নাম, যিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলের ইতিহাসে আলাদা এক অধ্যায়। দিয়েগো মারাদোনা। মেসি স্মরণ করেছেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তিকে এবং বলেছেন, দেশের ফুটবলকে তার প্রাপ্য মর্যাদার জায়গায় নিয়ে যেতে মারাদোনার অবদান অনস্বীকার্য। তার বিশ্বাস, মারাদোনা শুধু জীবদ্দশায় নয়, পরেও আর্জেন্টিনার পথচলার সঙ্গে আছেন।
মেসি ভুলে যাননি নিজের ক্লাবগুলোকেও। জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের সময় তারা যে তার অনুভূতিকে সম্মান করেছে, সেটির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দলের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো সবসময় সহজ নয়। কিন্তু মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেই সমন্বয়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি নিজের ক্লাবগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞ। সবশেষে মেসির কৃতজ্ঞতার তালিকায় এসেছে ঈশ্বরের নামও। তার বিশ্বাস, ঈশ্বরের নির্দেশনা ও ইচ্ছা ছাড়া এতদূর আসার স্বপ্নও দেখা সম্ভব ছিল না। তাই বিদায়ের বার্তাটিও শেষ হয়েছে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা এবং ভবিষ্যতে এই মানুষগুলোকেই মিস করার কথা জানিয়ে।
মেসির বিদায়ী পোস্টে হাজারো প্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি মন্তব্য আলাদা করে নজর কেড়েছে। সেটি এসেছে তার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মেসির পোস্টে লিখেছেন, দেশের হয়ে এত বছর লড়াই করে তিনি এমন এক ইতিহাস তৈরি করেছেন, যা চিরকাল টিকে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জনের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা। শেষে পাঠিয়েছেন ভালোবাসা ও আলিঙ্গনের বার্তা।
