কখনো কখনো অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হয় না, সুযোগ এলেই তার সদ্ব্যবহার করতে হয়। অ্যান্থনি গর্ডন যেন সেটিই করে দেখালেন। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ইংল্যান্ডের জার্সিতে ধারাবাহিকভাবে গোল করার পর সেই ছন্দ নিয়েই ফিরেছিলেন বার্সেলোনায়। ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমে প্রথম গোল পেতে অপেক্ষা করতে হলো মাত্র ৭৮ সেকেন্ড! মনে হলো, এত দিনের গোলখরা কাটিয়ে এবার যেন সব হিসাব একসঙ্গেই চুকিয়ে দিতে নেমেছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
গর্ডনের দ্রুতগতির গোলের ওপর ভর করেই হেতাফেকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। দলের হয়ে অন্য গোল দুটি করেছেন গাব্রিয়েল জেসুস ও জুলস কুন্দে। এই জয়ে লা লিগায় মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচেই জয়ের কীর্তি গড়েছে কাতালান ক্লাবটি। ২৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানও ধরে রেখেছে তারা।
বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগায় নিজের প্রথম গোলটি করলেও গর্ডনের উদ্যাপনে ছিল না বাড়তি উচ্ছ্বাস। তার ভঙ্গিতে বরং মনে হয়েছে, গোলটি যেন প্রত্যাশিতই ছিল। গোল করার পরও আক্রমণাত্মক মেজাজ ধরে রাখেন তিনি। ১২ মিনিট পর বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে দারুণ একটি ক্রস বাড়ান গর্ডন। দানি ওলমো তাতে সামান্য ছোঁয়া দিলেও শেষ পর্যন্ত বলটি জালে জড়ায়নি। তবে ম্যাচের শুরুতেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে গর্ডন বুঝিয়ে দেন, গোলের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হলেও ছন্দ ফিরে পেতে তার সময় লাগে না।
এরপর গাভির হেড ঠেকিয়ে দেন সোরিয়া। হেতাফে গোলরক্ষক তখন পর্যন্ত নিজের দলকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন প্রাণপণে। কিন্তু বার্সেলোনার আক্রমণের ঢেউ ঠেকিয়ে রাখা তো সহজ নয়। ৩০ মিনিটে নিজেদের বক্সে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান জাইদ রোমেরো। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা গাব্রিয়েল জেসুস আর ভুল করেননি, ২-০। রাফিনিয়া নেই, কিন্তু গোল করার লোকের অভাব নেই বার্সেলোনার।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি সুযোগ এসেছিল কুন্দের সামনে। রদ্রির ভাসানো ক্রসে অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে একেবারে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শট নিতে একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলেন। সোরিয়ার জন্য কাজটা তাতে সহজ হয়ে যায়।
বিরতির পর আবার গর্ডনের পালা। লামিনে ইয়ামালের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ছুটেছিলেন গোলের দিকে। কিন্তু এবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান সোরিয়া। বক্সের বাইরে পর্যন্ত ছুটে এসে গর্ডনের সামনে থেকে বল কেড়ে নেন তিনি। তবে বার্সেলোনার গোলের খিদে তখনো মেটেনি। ৭৩ মিনিটে ডান দিক থেকে ইয়ামালের ক্রস, আর আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে কুন্দের নিখুঁত ফিনিশিং। ৩-০। ম্যাচের বাকি সময়টা তখন অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতা।
শেষ দিকে ইয়ামালও গোলের খাতায় নাম লেখাতে চেয়েছিলেন। তার ভলি অল্পের জন্য দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
