১১২ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল হতে পারে

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪

পঞ্চগড় সদরের নতুন বস্তি এলাকায় অবস্থিত মিনাল বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীশূন্য। কাগজ কলমে ১৫ জন শিক্ষক থাকলেও প্রতিষ্ঠানে আসেন না কেউ। শুধু অধ্যক্ষ মাঝেমধ্যে প্রতিষ্ঠানে আসেন। গত পাঁচ বছর ধরে চলছে এ অবস্থা। শনিবার (১০ অক্টোবর) ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যক্ষ জামিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, করোনার পর থেকেই শিক্ষার্থী কমে যাওয়া শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা জেনারেল শিক্ষামুখী হয়েছে। গত চার বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। কারিগরি শিক্ষায় সরকারের সুনজর প্রত্যাশা করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু মিনাল বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নয়, সারা দেশে শতাধিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বেহাল দশা। মাইকিং করেও মিলছে না শিক্ষার্থী। এদিকে টানা তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকা মিনাল বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ ৮৬টি ডিপ্লোমা পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না কেন-তা জানতে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এর আগে গত জুলাইয়ে টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করায় দেশের ২৬টি কারিগরি এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিল বোর্ড। সব মিলিয়ে ১১২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে বলে শোকজের চিঠিতে বলা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী ৮৬টি প্রতিষ্ঠান গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা না করলে তার পাঠদানের অনুমোদন বাতিলযোগ্য।

শোকজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর বিধি ৪.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমোদনের সময় আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে। এ অবস্থায় তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর আগামী ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টিও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, দেশে এখন অযোগ্য ও মানহীন বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছড়াছড়ি। ৪৬৭ বেসরকারি পলিটেকনিকের মধ্যে শুধু ঢাকাতেই আছে প্রায় ৭০টি, যার অধিকাংশই মানহীন। আরও দুরবস্থা ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর। এসব প্রতিষ্ঠানে যারা পড়ান, তাদের যোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ। মানের দিকে নজর নেই, শুধুই ব্যবসা। যার অংশীদার বোর্ডের কর্মকর্তারও। কোনো কোনো কর্মকর্তা প্রতি মাসে বেসরকারি পলিটেকনিক থেকে টাকা নেন-এমন অভিযোগও রয়েছে।

সূত্র জানায়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য রয়েছে একটি নীতিমালা। ২০০৯ সালে প্রণীত এ নীতিমালা সংশোধন হয় ২০১২ সালে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালার কী কী বাস্তবায়ন করছে তা জানেন না বোর্ড কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, নীতিমালার ৫০-৬০ শতাংশ মানলেই প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া হয়।

 
ইত্তেফাক/এমএস