ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে বারান্দা থেকে পড়ে শিবা শর্মা (২৮) নামে এক ক্যাফে মালিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার প্রেমিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা দুবের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন নিহতের মা রঞ্জনা শর্মা। তার অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে শিবাকে অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে লক্ষ্ণৌর হজরতগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রঞ্জনা। এ ঘটনায় শ্রদ্ধা দুবে, তার বোন রশ্মি দুবে, দানিশ নামে এক গাড়িচালক, আদিল নামে এক সহযোগীসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে হত্যা মামলা হয়েছে।
রঞ্জনা শর্মার অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে শ্রদ্ধা তাকে ফোন করে জানান, শিবা তার বারান্দা থেকে পড়ে গেছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে আবার ফোন করলে শ্রদ্ধা তাকে জানান, তার গাড়িচালক শিবাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। এ সময় চালকের ফোন নম্বরও দেওয়া হয়।
রঞ্জনা জানান, লক্ষ্ণৌর কিং জর্জেস মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (কেজিএমইউ) জরুরি বিভাগে পৌঁছে তিনি একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। সেখানে দানিশ নামে এক যুবক নিজেকে শ্রদ্ধার গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দেন। ছেলের কী হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেন রঞ্জনা। পরে শিবাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মায়ের দাবি, প্রায় চার মাস ধরে শ্রদ্ধা তার ছেলেকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। শিবার অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হতো। তাদের সম্পর্কের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রঞ্জনা আরও জানান, এর আগে একাধিকবার ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবা এড়িয়ে যেতেন। শ্রদ্ধার দাবি মেনে না নিলে তাকে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ তার।
ছেলের মৃত্যুর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে হজরতগঞ্জের একটি হনুমান মন্দিরে শিবা ও শ্রদ্ধার দেখা হয়েছিল বলে জানান রঞ্জনা। তার ভাষ্য, শিবার উদ্যোগে ওই বৈঠক হয়। সেখানে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রদ্ধা সম্মতি জানিয়েছিলেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে ছোট পরিসরে বিয়ের আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। তবে এ আলোচনার পর শ্রদ্ধার আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন রঞ্জনা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে বাড়িতে আসার পর শ্রদ্ধা শিবাকে বারবার ফোন করেন। তার কাছে ফিরে না গেলে চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রঞ্জনা শর্মার দাবি, মৃত্যুর আগে শিবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার পাঁজর, কাঁধ, বাহু ও উরুতে সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া ছেলের চোয়ালে গুরুতর আঘাত এবং চোখ, কান ও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের কথাও উল্লেখ করেন রঞ্জনা। এসব কারণে মৃত্যুর আগে শিবাকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করছেন তিনি।
তবে বারান্দা থেকে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগে কী ঘটেছিল, তা এখনো তদন্তাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। শিবকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।
সূত্র: এনডিটিভি
