প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর ব্যাপক উত্তেজনা ও ধড়পাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলন দমন করতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ তরুণ বিক্ষোভকারীদেরও আটক করে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দিন শেষে আটককৃতদের একাংশ মুক্তি পেলেও, বাকিরা এখনো পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই আটক হন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। এ সময় আটক করা হয় দলটির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস আর আশুতোষ রানকাকেও। তাদের এখনো মুক্তি দেওয়া হয়নি।
দিপকে আটক হওয়ার প্রেক্ষাপটে এক ভিডিও বার্তায় জানান, সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে আন্দোলন এগিয়ে নেবেন। দিন শেষে অজিঙ্ক শিন্ডে ঘোষণা দেন, রোববার দিল্লিতে আবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করা হবে। একইদিনে বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তিনি।
সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে অজিঙ্ক শিন্ডে লেখেন, ‘মোদি সরকার ভয় পাচ্ছে। আমরা আবার একজোট হলে তাদের ক্ষমতার গদি টলে যেতে পারে।’
শনিবার সকালে দিল্লিতে আটক হয়েছিলেন ছাত্রনেতা নেহা বোরা। তিনি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি। পরে পুলিশ নেহাকে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন।
এক্স পোস্টে নেহা বোরা লিখেছেন, ‘পুলিশ আমার ফোনটি নিয়ে নিয়েছিল। এখন আমি আমার ফোন ফেরত পেয়েছি। ময়দানগড়ি থানা থেকে নারীদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে গুরুগ্রামে নিজ বাসা থেকে আটক হয়েছিলেন ধ্রুব। হরিয়ানা রাজ্যের এ এলাকা দিল্লির কাছেই। পুলিশ জানায়, পুলিশের নির্দেশনা না মানায় তাকে আটক করা হয়।
সিইসির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে নয়াদিল্লিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসার সামনে ধরনায় বসে আটক হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে মমতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে আটক বাকি তৃণমূল নেতাদেরও ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
ছেড়ে দেওয়া হয়েছে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা অরবিন্দ কেজরিয়ালকে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, জাফরপুর কালান পুলিশ স্টেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন কেজরিওয়াল।
দিল্লি পুলিশ গতকাল জানিয়েছে, বিক্ষোভ ঘিরে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে নেমে আটক হয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধী।
শনিবারের মতো আজও দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সদস্য।
শনিবার দিল্লির যে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল, সেগুলো রোববার খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)।
বিক্ষোভ ঘিরে আটক সবাইকে আজকের মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন বা পদযাত্রা কর্মসূচি করার কথা বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
