স্থানীয় ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত নয়’: সংসদীয় কমিটির সভাপতি

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৮

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো ‘পুরোপুরি প্রস্তুত নয়’ বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। এ কারণে বাহিনীকে প্রস্তুতির জন্য সময় দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া হলেও আগামী বছরের শুরুর দিকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সেলিম রেজা হাবিব।

বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে জনস্বার্থে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্য নির্বাচনের তুলনায় বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এখনো পুরোপুরি নেই।’

তবে আগামী বছরের প্রথম দিকেই নির্বাচন আয়োজনের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী বছরের প্রথম দিকেই এই নির্বাচন হবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কমিটির সভাপতি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বেশি থাকে।

তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে নয়টি ওয়ার্ডের সদস্য, তিনটি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য এবং চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি তৎপরতা প্রয়োজন হয়।

সেলিম রেজা হাবিব জানান, বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ

বৈঠকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সেলিম রেজা হাবিব।

তিনি বলেন, দুর্নীতির উদ্দেশ্যে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।

এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নে যোগ্যতা ও মেধাকে গুরুত্ব দেওয়া, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ এবং উন্নয়নকাজ টেকসই করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

সড়ক নির্মাণে তিন বছরের জামানতের সুপারিশ

গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এ সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজের তদারকি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যেকোনো উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পর তিন বছর সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে নির্মাণকাজের গুণগত মানে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার সুপারিশ

বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার মশার উপদ্রব কম মনে হলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। এর কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতি শনিবার দক্ষিণ প্লাজা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সারা দেশে এ কর্মসূচি চলছে।

এ ছাড়া দেশের আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের সততা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম খান।

 
ইত্তেফাক/এসজে