জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দাউদকান্দি মডেল মসজিদ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। জাকসুর সাবেক এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেরদৌস আল হাসান জানান, মোহাইমিনুল অন্য একজনের ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে তার বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থী শফিউজ্জামান শাহীনকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি জানান, দাউদকান্দি মডেল মসজিদের আশপাশে রয়েছেন এবং তাকে যেন উদ্ধার করা হয়। বার্তাটি পাওয়ার পর শাহীন বিষয়টি তাদের জানালে তারা দ্রুত সক্রিয় হন। পরে স্থানীয় পরিচিতজনদের সহযোগিতায় দাউদকান্দি মডেল মসজিদ এলাকা থেকে মোহাইমিনুলকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি নিরাপদে রয়েছেন।
মোহাইমিনুলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ফেরদৌস আল হাসান বলেন
শারীরিকভাবে সে সুস্থই ছিল। তবে মানসিকভাবে নিজের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধ করছিল এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো চরম পরিস্থিতিতে চলে গিয়েছিল। মোহাইমিনুল নিজেই জানিয়েছে, বারবার নামাজ পড়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত সে সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে পেরেছে।
এর আগে সোমবার বিকেলে মোহাইমিনুলের সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি মোহাইমিনুলে সন্ধানে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), গোয়েন্দা বিভাগসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করতে কাজ করছিল। পুলিশের অনুসন্ধানী দল তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছিল। এর মধ্যে একটি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছিল।
এর আগে গত রোববার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন মোহাইমিনুল। পরে তার আবাসিক কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। নোটে বিভাগের অবহেলার বিষয় উল্লেখ থাকায় ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মোহাইমিনুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি জানিয়ে বিভাগীয় ফটকে তালা ঝুলিয়েছিলেন। তার সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তারা। একই সঙ্গে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড আব্দুল হালিম বলেন, আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি যে মোহাইমিনুলকে ২৪ ঘণ্টা পরে সন্ধান পাওয়া গেছে। এখন তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়েছে। শীঘ্রই ক্যাম্পাসে ফিরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ফেরদৌসের একটি পোস্ট থেকে বিষয়টি জানতে পারি। ফেরদৌস আমাদের পিআরওকেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন, যাতে তিনি প্রশাসনকে অবহিত করেন। তার বড় ভাইদের সঙ্গে তাঁর অবস্থানের বিষয়টিও প্রশাসনকে জানানো হয়। এভাবেই আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই।
তিনি আরও বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। আমি মনে করি, এটি আমাদের সবার একটি অর্জন। তাকে সুস্থ অবস্থায় আমাদের কাছে নিয়ে আসার পর তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে তার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করারও আমরা চেষ্টা করব।

হলের কক্ষে মিলল নোট, বাসে ওঠার পর নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী