ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আয় ৪০ লাখ পাউন্ড। কিন্তু এর বাইরে অতিরিক্ত ১৩ লাখ পাউন্ডের একটি বেতন প্যাকেজ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এই বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ‘ফিফার নিয়মাবলীর আরও একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের’ অভিযোগ উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া একটি কোম্পানির কাছ থেকে এই বাড়তি অর্থ গ্রহণ করেছেন ইনফান্তিনো। আর এই বিষয়টি ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার ২০২৪-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এফডব্লিউসি২০২৬ ইউএস ইঙ্ক তাকে ১৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার দিয়েছিল। ফিফা ওই বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে সেই অর্থ প্রকাশ্যে না আনায় সন্দেহ জেগেছে।
২০২৪ সালের ফিফার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোকে দেওয়া হয়েছে ৪২ লাখ ৭০ হাজার সুইস ফ্রাঁ। সেখানে সেই বাড়তি অর্থ গ্রহণের বিষয়টি বাদ পড়েছে। অথচ ফিফার নিজস্ব বিধানে লেখা আছে, ফিফা প্রেসিডেন্টের ‘ব্যক্তিগত পারিশ্রমিক অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে’।
সবার আগে মার্কিন রাজস্ব পরিষেবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস। এই গণমাধ্যমকে ফিফার গভর্নেন্স কমিটির সাবেক প্রধান মিগুয়েল মাদুরো বলেছেন, বাড়তি পারিশ্রমিক ঘোষণা করতে না পারা সংস্থাটির নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, ‘ফিফার সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে যদি তাকে অন্য কোনো অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে এবং তা ঘোষণা করা না হয়ে থাকে, তবে এটি নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’ তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানান।
গুঞ্জন উঠেছে, মায়ামিতে ইনফান্তিনোর বিলাসবহুল জীবনযাপনের পেছনে রয়েছে ওই গোপন বেতন। বিশ্বকাপের শুরু থেকে তিনি মাসিক হাজার হাজার ডলার ভাড়ায় সমুদ্রের ধারের ওই প্রাসাদসম বাসায় থাকছেন।
২০২৪ সালে ওই ১৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারের সঙ্গে মূল বেতন ও বোনাসের বাইরে আরও ৬ লাখ ২৬ হাজার ২২৯ ডলার পেয়েছিলেন তিনি। তার গোপন বেতনের বিষয়টি প্রকাশ করা একটি সূত্র দ্য টাইমস-কে জানিয়েছেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জন্য ইনফান্তিনো সমপরিমাণ বা সম্ভবত তারও বেশি অর্থ পেয়েছেন।
