সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। নিয়োগের যাচাই-বাছাই কমিটিতে তার প্রস্তাব উপেক্ষা করা হয়েছে দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ওপরের চাপ কোন চাপ?’
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে গঙ্গাচড়া উপজেলা চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব অভিযোগ করেন তিনি। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বক্তব্যে রায়হান সিরাজী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, আমি ৩ লাখ ৭৫ হাজার ভোটারের এমপি। আমার একজন প্রতিনিধি রাখেন, একজন পেশাদার ব্যবসায়ী রাখেন, সরকারদলীয় একজন রাখেন। উনি আমার কথা রাখলেন না। উনি রাখলেন তার কথা। সর্বশেষ বলল, ওপরের খুব চাপ। কমিটিতে রাখা যাবে না। এই ওপরের চাপ কোন চাপ?’
তিনি আরও বলেন, ‘উনি ওই চেয়ার থেকে বলতে পারেন কি না জানি না। কারণ, এই আসনের আমি এমপি।’
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সার ডিলার নিয়োগের যাচাই-বাছাই কমিটিতে ইউএনওর মনোনীত তিনজন সদস্য ছিলেন। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি ছিল আট সদস্যের। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এ কমিটি ইউনিয়নপ্রতি তিনজনের নাম জেলায় পাঠিয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত একটি তালিকায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অনুমোদিত আবেদনকারীদের অস্থায়ীভাবে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তালিকাটিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার।
সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রায়হান সিরাজী বলেন, গঙ্গাচড়ায় নতুন ডিলার নিয়োগে ‘পৃথিবীর নিকৃষ্টতম দলীয়করণ’ হয়েছে। সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও এ নিয়োগে ‘সবার আগে বিএনপি’ প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ‘বানরের পিঠা ভাগ করার’ সঙ্গে তুলনা করে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সরকারি নীতিমালাকে উপেক্ষা করে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রায়হান সিরাজীর দাবি, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের তিনটি ওয়ার্ড এবং নোহালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের সার সংগ্রহের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে ওই দুই ইউনিয়নে যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ডিলার নিয়োগের অনুরোধ করেছিলেন তিনি। তবে তার সেই অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার রাতে মুঠোফোনে রায়হান সিরাজী বলেন, ‘সার ডিলারের আবেদন যাচাই কমিটি গঠনের সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। ইউএনও আমার কথা রাখেননি। উনি (ইউএনও) রেখেছেন তার কথা, মানে ওপরের কথা।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, ‘এমপি মহোদয় আমাকে উদ্দেশ করে যেসব কথা বলেছেন, এমন কোনো কথা তিনি আমাকে বলেননি।’
