নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে দেশের সব ইবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশ, নজরুল চর্চা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব মাদ্রাসাপ্রধানকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ আওতাধীন মাদ্রাসাগুলোতে এ কার্যক্রমের তদারকি ও নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক ও নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার করা এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
শ্রেণিভিত্তিক প্রতিযোগিতার বিষয়
নির্দেশনায় মাদ্রাসার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইবতেদায়ী পর্যায়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নজরুলের ইসলামি সংগীত বা গজল, নির্ধারিত কবিতা আবৃত্তি, হামদ ও নাতে অংশ নিতে পারবে। নির্ধারিত কবিতাগুলো হলো ‘তোর হলো খোকাবাবুর সাধ’, ‘মা’ ও ‘সংকল্প’। এ ছাড়া তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আমার চোখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা ও নির্ধারিত বক্তৃতার আয়োজন থাকবে।
দাখিল পর্যায়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে নজরুলের ইসলামি সংগীত বা গজল, হামদ ও নাত, নির্ধারিত কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা এবং রচনা প্রতিযোগিতা। আবৃত্তির জন্য নির্ধারিত কবিতাগুলো হলো ‘কিশোর ফুল’, ‘কুলি-মজুর’, ‘মানুষ’ ও ‘নারী’। রচনার বিষয় ‘নজরুলের দেশপ্রেম’ এবং ‘নজরুল সাহিত্যে ও সংগীতে ইসলামের সাম্যের ধারণা’।
আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নজরুলের ইসলামি সংগীত বা গজল, তাঁর যেকোনো কবিতা আবৃত্তি, হামদ ও নাত এবং উপস্থিত বক্তৃতায় অংশ নিতে পারবে। এ পর্যায়ে ‘ভাবুক ও নজরুল’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হবে।
ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে নজরুলের যেকোনো কবিতা আবৃত্তি, ইসলামি সংগীত বা গজল, হামদ ও নাত, উপস্থিত বক্তৃতা এবং ‘নজরুল ও মানুষের মুক্তি’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা।
রচনা প্রতিযোগিতায় যেসব শর্ত মানতে হবে
নির্দেশনায় রচনা প্রতিযোগিতার জন্য কয়েকটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। রচনা সম্পূর্ণ মৌলিক হতে হবে এবং হাতে লিখে জমা দিতে হবে। লেখায় ব্যবহৃত তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বই, প্রবন্ধ বা লেখকের রেফারেন্স কিংবা তথ্যসূত্র উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
শব্দসীমার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইবতেদায়ী পর্যায়ে রচনা সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দ, দাখিল পর্যায়ে ১ হাজার শব্দ, আলিম পর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ শব্দ এবং ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে ২ হাজার শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
