জামালপুরের মাদারগঞ্জের জনসম্মুখে জীবন্ত শালিক পাখি ধরে ছিঁড়ে খাওয়ার ঘটনায় আটক সাবদুল্লাকে অবশেষে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে মাদারগঞ্জ থানার পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে শেরপুর বন বিভাগের ওয়াইল্ড লাইফ টিমের সুমন সরকারের কাছে সাবদুল্লাহকে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬ ধারায় মামলা করে জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন জামালপুর জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
এর আগে বুধবার দুপুরে মাদারগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ জনসম্মুখে জীবিত শালিক খাওয়ার অপরাধে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি মধ্যপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। পেশায় ইজিবাইক চালক সাবদুল্লা ওই এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের রাস্তার পাশে বসে থাকা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি একটি জীবন্ত ছোট পাখি হাতে নিয়ে এর পালক ছাড়াচ্ছেন। এরপর পাখিটির মাংস ছিঁড়ে কাঁচা চিবিয়ে খাচ্ছেন তিনি। এ সময় তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন পথচারী, রিকশাচালক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের কেউ কেউ মুঠোফোনে ঘটনাটি ধারণ করছিলেন।
ভিডিওটি প্রথম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংবাদিক সাদ্দাম হোসাইন। তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে কোয়ালিকান্দি বাজারে এক ব্যক্তির সঙ্গে ৫০০ টাকার বাজি ধরে জীবন্ত পাখি কাঁচা খাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক যুবক তাকে এ ঘটনার ভিডিও পাঠান। বিষয়টি নিষ্ঠুর মনে হওয়ায় ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন বলে জানান সাদ্দাম।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বাজি বা বিনোদনের নামে একটি জীবন্ত শালিক পাখিকে এভাবে নির্যাতন করা অমানবিক ও নিন্দনীয়। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
জামালপুরে বন্যপ্রাণী নিজে কাজ করা মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, ভিডিওটি দেখার পর তা জেলা পুলিশ সুপারসহ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যাবস্থা নিয়েছে।
মাদারগঞ্জ থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশের পরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয় এবং বুধবার বিকালে বন বিভাগের ওয়াইল্ড লাইফ টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শেরপুর বন বিভাগের ওয়াইল্ড লাইফ টিমের কর্মকর্তা সুমন সরকার জানান, ‘আটক আসামিকে বন বিভাগের মামলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬ ধারায় মামলা করে তারা জামালপুর আদালতে প্রেরণ করছেন।’

৫০০ টাকার বাজি ধরে খেলেন শালিকের কাঁচা মাংস, আটক ১