রংপুর মহানগরীর নজিরেরহাটে ধর্ষণের শিকার হয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে চিকিত্সাধীন। ধর্ষিতার মা এ ঘটনায় বাদী হয়ে হাজিরহাট থানায় একটি মামলা করেছেন। এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক রহস্যজনকভাবে বিষক্রিয়ায় মারা গেছে বলে জানা গেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-আরপিএমপির হাজিরহাট থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম জানান, মহানগরীর নজিরেরহাটের পার্শ্ববর্তী জুয়েলের মালিকানাধীন সোনার বাংলা নার্সারি ও এগ্রোবাংলা লিমিটেডের কেয়ারটেকার তোফাজ্জল হোসেনের রান্নার কাজ করতো ওই স্কুলছাত্রীর মা। মায়ের কাজ করার সুবাধে সেখানে যাতায়াত করতো স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তার কন্যা। মায়ের সঙ্গে সেও ওই নার্সারিতে বিভিন্ন কাজকর্ম করত। এরই মধ্যে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখা যায় সে ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর মেয়েটিকে নজিরেরহাটে ল্যাপরোসি মিশনে ভর্তি করা হয়। মেয়ের মা ১৮ আগস্ট হাজিরহাট থানায় অজ্ঞাতনামাদের অভিযুক্ত করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
তবে হাজিরহাট থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রাথমিক অভিযোগ সেই ধর্ষক তোফাজ্জল মারা গেছে। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যুর বিষয়টি বলা হচ্ছে। তবে তার মৃত্যুটা স্বাভাবিক কি না বিষক্রিয়ায় হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তিনি জানান, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। তবে খুব শিগগিরই ধর্ষণ ও অভিযুক্ত ধর্ষকের মৃত্যুর বিষয়টির ক্লু উদঘাটন করা হবে।
ধর্ষিতার মা জানান, এরই মধ্যে আমার মেয়ে আমাকে জানায় তোফাজ্জল তাকে ধর্ষণ করেছে। জানাজানি হওয়ার পর শুনেছি তোফাজ্জল নার্সারিতে দেয়া কীটনাশক ওষুধ খেয়ে গত শুক্রবার অসুস্থ হয়। হাসপাতালে নেয়া হলে সে মারা যায়। তবে এর পেছনে তোফাজ্জল নাকি অন্য কেউ জড়িত আছে সেটা খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।
