স্টারলিংককে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে দেখছে ইরান

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭

স্টারলিংককে শত্রুর ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা এবং ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামিরি জানান, শত্রুপক্ষ কমান্ড, কন্ট্রোল, গোয়েন্দাগিরি ও তথ্য সংগ্রহের কাজে স্টারলিংক ব্যবহার করছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানে এই স্যাটেলাইট সেবা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ব্যবহার বা বিক্রির অপরাধে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

চলতি ২০২৪ সালে ইরান দুই দফায় দীর্ঘ মেয়াদী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট প্রত্যক্ষ করেছে, যার মধ্যে বছরের শুরুতে জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় তিন সপ্তাহ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর টানা ৮৮ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন ডিভাইসের জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত করতে জামার ব্যবহার, ড্রোন অভিযান পরিচালনা এবং অবৈধভাবে সংগৃহীত ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ইরানের প্রযুক্তি উপমন্ত্রী মোহাম্মদ হাফেজ হাকামি সতর্ক করে জানিয়েছেন, কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্টারলিংক বিস্তৃত হলে তা ইরানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কড়া ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নরওয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইরান ইতোমধ্যে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। এছাড়া ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানী জানিয়েছেন, সাইবার হামলা থেকে জাতীয় তথ্যভাণ্ডার সুরক্ষায় ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ