হাওর চলছে ট্রলার ভাঙছে বাড়িঘর

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ২২:৩০

নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি, আটপাড়া এবং কলমাকান্দা উপজেলা হাওরের অংশ। বর্ষাকালে যেমন হাওর উপজেলাগুলো বলতে গেলে পানির নিচে থাকে, তেমনি শুকনার সময় সেখানে কোনো পানি থাকে না। বর্ষার সময় হাওরের যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। কিন্তু শুকনার সময় হাওরবাসীর চলাচলে ভীষণ কষ্ট। হাওরগুলো এখন পানিতে টইটুম্বুর। চলছে ছোটো-বড়ো বিভিন্ন ধরনের ট্রলার বা ছোটো-বড়ো নৌকা, তবে সবই ইঞ্জিনচালিত। আর এসব ট্রলারের ঢেউয়ে ভাঙছে বাড়িঘর।

মদনের উচিত্পুর থেকে খালিয়াজুুরির জগন্নাথপুর, রসুলপুর, কৃষ্ণপুর, গাজিপুর এবং খালিয়াজুরিতে এখন যাতায়াতের একমাত্র বাহন এই ট্রলার। মোহনগঞ্জ উপজেলা সদর এবং বারহাট্টা সদর থেকে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয় এই ট্রলারে। নেত্রকোনা থেকে সুনামগঞ্জ জেলায়ও যেতে হলে লঞ্চ, ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোই দুর্ঘটনায় পড়ছে বেশি। কারণ এগুলো প্রয়োজনে পেছাতে পারে না। নৌকা থামাতে হলেও অনেকটা এগিয়ে যায়। তখন অন্য ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটে দুর্ঘটনা।

হাওরবাসীর মধ্যে কয়েকজন জানান, নিয়মনীতি না মেনে অনবরত ট্রলার চলাচলের কারণে হাওর এলাকার গ্রামগুলো থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এতে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর। এমনকি বেশকিছু গ্রামও এখন হুমকিতে রয়েছে। গ্রামের লোকজন বাঁশ এবং চাটাই দিয়ে ঢেউয়ের কবল থেকে বাড়িঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন।

নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, হাওরের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বাড়িঘর রক্ষায় এখন পর্যন্ত অর্থাভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে।