ডাকঘরে ডাকাতির জেরে মামলা, হুমকিতে অফিসে যেতে পারছেন না পোস্টমাস্টার

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১১

ডাকঘরে ডাকাতির ঘটনায় মামলা করার পর থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ডাকঘরের পোস্টমাস্টার তারেক উল্লাহ চৌধুরীকে (৫৮) প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তার ভাষ্য, নিরাপত্তাহীনতার কারণে গত এক মাস ধরে কর্মস্থলে যেতে পারছেন না তিনি।

তারেক উল্লাহর অভিযোগ, ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে হুমকি দিচ্ছেন।

পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাঁশখালীর ছনুয়া ডাকঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের মুখে পোস্টমাস্টারকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ডাকঘরে গচ্ছিত নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতদল। এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর পোস্টমাস্টার তারেক উল্লাহ চৌধুরী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন।

পোস্টমাস্টার তারেক উল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ, মামলার পর থেকে আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। প্রাণনাশের ভয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ছনুয়া ডাকঘরে যেতে পারছেন না তিনি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চারজনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তারেক উল্লাহ চৌধুরী।

অভিযুক্তরা হলেন, ছনুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালামিয়ার ছেলে মোকাদ্দেছ (৫০), মোকাদ্দেছের ছেলে রাকিব (৩০), মোহাম্মদ আমজাদের ছেলে জাকের হোসেন (৪২) এবং মৃত বজল আহমদের ছেলে মো. কাদের।

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তারেক উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আসামিরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি অফিসে গেলে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাদের ভয়ে বিগত এক মাস ধরে কর্মস্থলে যেতে পারছি না। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আমাকে ছনুয়া ডাকঘরে না গিয়ে উপজেলা ডাকঘরে হাজিরা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’

এদিকে পোস্টমাস্টারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোকাদ্দেছ। তিনি বলেন, ‘হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা কাউকে হুমকি দিইনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ আমাদের জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এপি