কুমিল্লা রামমালা গ্রন্থাগার

ধ্বংসের পথে দুর্লভ পাণ্ডুলিপি

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ২২:৩১

কুমিল্লায় অযত্ন-অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে যাচ্ছে শতবর্ষের রামমালা গ্রন্থাগারের দুর্লভ সব পাণ্ডুলিপি। তালপাতা, ভোজপাতা ও কাঠের মধ্যে খোদাই করা বাংলা ও ভারতীয় সংস্কৃতির দুর্লভ পুঁথি ধুলাবালু আর পোকামাকড়ে বিনষ্ট হচ্ছে।

সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯১২ সালে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কুমিল্লা নগরীর রামঘাট (মনোহরপুর) এলাকায় আট একর জায়গায় ব্যবসায়ী/ শক্ষানুরাগী মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ‘মহেশাঙ্গন’ গড়ে তোলেন। এখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেবালয়, রামমালা গ্রন্থাগার, ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়, নিবেদিতা ছাত্রীনিবাস, নিবেদিতা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাত্রাবাস, মিউজিয়াম ও নাট মন্দির। তবে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘রামমালা গ্রন্থাগার’। এতে রয়েছে বাংলা ও ভারতীয় সংস্কৃতির বই, প্রত্যেক ধর্মের গ্রন্থ ও বিভিন্ন বই এবং তালপাতা, ভোজপাতা, গাছের বাকড়সহ কাঠের ওপর খোদাই করা হাতের লেখা পুঁথি। ১৯৪৯ সালে মহেশ ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর ‘মহেশ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ গঠনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এখানকার দুর্লভ ও মূল্যবান পাণ্ডুলিপি। সম্প্রতি গ্রন্থাগারটি পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা। ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুধাংশু কুমার মজুমদার বলেন, মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের প্রতিষ্ঠিত রামমালা গ্রন্থাগারের মূল্যবান বইগুলো অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে এসব বই সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি।

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক বলেন, আর্কাইভের মতো করে বড়ো আকারের আধুনিক লাইব্রেরির মাধ্যমে দুর্লভ বই ও পুঁথিগুলো সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম উপকৃত হবে। গ্রন্থাগারের প্রধান গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক বিমলেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার বলেন, প্রাচীন এ গ্রন্থাগার আমাদের জাতীয় সম্পদ। শুধু হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নয়, বিশ্বের সকল ধর্মের যে কেউ এখানে গবেষণা করতে পারেন। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে এ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নেবো। জেলা প্রশাসক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্বার্থে এগুলো সংরক্ষণ করা দরকার। এটি একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। ট্রাস্টের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।