কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

‘আর ১০টা মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও নিচে নেমে আসতে পারতো’

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩২

‘আর ১০টা মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও নিচে নেমে আসতে পারত।’ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে বুকফাটা কান্নায় এভাবেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আশিকুল ইসলাম। ইনানীর একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি।

স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন আশিকুল ইসলাম। ওঠেন উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ। শনিবারই তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেরার আগেই আগুন কেড়ে নেয় তাদের আনন্দময় ভ্রমণের সবটুকু স্মৃতি। 

আশিকুল বলেন, আগুন দেখতে পেয়ে স্ত্রীই তাকে ডেকে তোলেন। এরপর পাশের কক্ষে থাকা অন্য স্বজনদের ডাকতে যান তিনি। এর মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে তিনি দ্রুত একটি জানালা ভেঙে সেখান দিয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু তার স্ত্রী আর বেরিয়ে আসতে পারেননি।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে এক শ্যালিকার স্বামী চুয়াডাঙ্গায় চলে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে তাদের পরিবারের মোট নয়জন সদস্য অবস্থান করছিলেন। এদের মধ্যে আশিকুলের মামা-শ্বশুর মাসুদ ও তার স্ত্রী মিলা দগ্ধ ও আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের ঢাকায় রেফার করেন।

আশিকুলের দেওয়া তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পরিবারের যে ছয় সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন, তারা হলেন- আশিকুলের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, ফারিহা কবির এবং তাদের স্বজন পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহমদ ও নাফিস তেহামি জেরিফ।

এদিকে শনিবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান সদর হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। এ সময় আশিকুল তার পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের পরিচয় জেলা প্রশাসককে জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা নেওয়া হচ্ছে। স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নিখোঁজ ছয়জনের মধ্যে কেউ তাদের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এমএসআর