টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের বেড়াজালে আবদ্ধ দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন। শুধু দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট নয়, এখান থেকেই তারা নিয়ন্ত্রণ করছে পার্বতীপুর, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট। কাউন্টারে টিকিট না মিললেও তিন থেকে চারগুণ দামে মিলছে ঢাকাগামী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। এতে বিপাকে পড়েছে ঈদের পর কর্মস্থলে ঢাকায় ফেরা দিনাজপুরের যাত্রীরা। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষ্যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হলেও অতিরিক্ত বগির এসব টিকিট ছাড়া হচ্ছে শুধুমাত্র পঞ্চগড় থেকে। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে দিনাজপুরের রেলযাত্রীদের মধ্যে। এদিকে গত শনিবার দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রির সময় ছয়টি টিকিটসহ আমিনুল ইসলাম (৪১) নামে একজনকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে না মিললেও কালোবাজারিদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ট্রেনের টিকিট। ঈদের আগেই বিক্রির কথা বলা হলেও কালোবাজারিদের হাত থেকে তিনগুণ অথবা চারগুণ দামে মিলছে টিকিট। শোভন চেয়ার ৪৬৫ টাকার স্থলে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, এসি চেয়ার ৮৯২ টাকার স্থলে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় মিলছে কালোবাজারিদের কাছ থেকে।
দিনাজপুর রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) থানার ওসি মো. গুলজার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে জিআরপি থানায় আটক আমিনুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোছা. নার্গিস জানান, ঢাকাগামী অতিরিক্ত সংযোজনকৃত এসব বগির ট্রেনের টিকিট শুধুমাত্র বিক্রি করা হচ্ছে পঞ্চগড় থেকে। ঢাকাগামী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের প্রতিটিতে অতিরিক্ত বগিসহ ১৪টি করে বগি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বগিতে আসন রয়েছে ৯২টি করে। কিন্তু দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিটি ট্রেনের মাত্র ১২৫ থেকে ১৫৭টি করে আসনের টিকিট বরাদ্দ করা হয়েছে। এজন্য দিনাজপুরে যাত্রীদের কাছে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি সম্পর্কে তিনি বলেন, কেউ কালোবাজারিতে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
