খাদ্যমন্ত্রীকে না জানিয়ে সরকারি সফরসূচি তৈরি ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের ঘটনায় এবার দায়িত্ব হারিয়েছেন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. রফিকুল ইসলাম। এর আগে একই অভিযোগে মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. আবদুল আওয়ালকেও (বুলবুল) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। মূলত মন্ত্রীর অনুমোদনহীন ওই বিতর্কিত সফরসূচিতে স্বাক্ষর করার কারণেই পিও রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জারি করা এক অফিস আদেশে রফিকুল ইসলামকে মন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ক্ষেমালিকা চাকমা রফিকুল ইসলামকে দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে তাকে সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর এপিএস আবদুল আওয়ালের টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের জন্য একটি সরকারি সফরসূচি জারি করা হয়। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে জারি করা ওই সূচি অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পরিদর্শনে যান আবদুল আওয়াল।
সফরসূচিতে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এপিএসের নিজ বাসা থেকে যাত্রা শুরু এবং পরিদর্শন শেষে আবার বাসায় ফেরার কথা উল্লেখ করা হয়। সফরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ির জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের পরিচালককেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছিল।
ওই সফরে আবদুল আওয়ালের সঙ্গে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, এ সফরের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম কিছুই জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরই এপিএস আবদুল আওয়ালকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সফরসূচি তৈরিতে পিও রফিকুল ইসলামের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ শনিবার তাকেও মন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
