নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সাহাপুর এলাকায় অনুমোদনহীন মডার্ন হেলথ সেন্টার নামের একটি ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টারের বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া চিকিত্সক দিয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখানো হচ্ছে। নিম্নমানের মেশিন দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিত্সক ও কর্মচারীর যোগসাজশে মডার্ন হেলথ সেন্টারটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতারণার খবরে গতকাল বুধবার দুপুরে র্যাব-১১ এর সদস্যরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করে নুরে আলম (৩৬) নামের এক ভুয়া চিকিত্সককে আটক করেছে। আটককৃত নুরে আলম জেলার আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা কালীবাড়ি এলাকার মৃত ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে।
র্যাব-১১ এর মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, দুপুরে র্যাব অনুমোদনহীন মডার্ন হেলথ সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে ভুয়া চিকিত্সক নুরে আলমকে আটক করে। নুরে আলম নিজেকে এমবিবিএস, ডিএমএস, সিএমও, ডিএমও আলট্রাসনোগ্রাফি পদবি দিয়ে রোগী দেখে আসছে। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিজেই রিপোর্ট তৈরি করেন। অথচ তার এ ধরনের কোনো সনদপত্র নেই এবং তিনি যে ভুয়া চিকিত্সক তা তিনি স্বীকার করেছেন। অভিযানে আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, কম্পিউটারসহ ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩০০ গজ সামনে সাহাপুর এলাকায় অনুমোদনহীন মডার্ন হেলথ সেন্টারটি গড়ে তোলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল মতিন ও ভুয়া চিকিত্সক নুরে আলম। আর কমপ্লেক্সের পিওন রিনা আক্তার, তার স্বামী বাবুলসহ বেশ কয়েকজন দালাল সেখানে কমিশনে রোগী নিয়ে যাচ্ছে। কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সাঈদ আল মামুনের যোগসাজশে কয়েকজন চিকিত্সক কমিশনের আশায় সেখানে রোগী পাঠাচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সাঈদ আল মামুন বলেন, আমাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এসব কাজে জড়িত নয়। আর আমার যোগসাজশ তো প্রশ্নই ওঠে না।
