বাংলাদেশ ও মিয়ানমার আজ বৃহস্পতিবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে; কিন্তু রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে নানা শর্ত দিচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। নিজ দেশে তারা তাদের ভবিষ্যত্ সুন্দর করতে পারবে। আর তারা যে দাবি বা শর্ত দিচ্ছে তা সেখানে গিয়েই অর্জন করা উচিত।
গতকাল বুধবার রাতে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আশা করছি বৃহস্পতিবার থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হবে; কিন্তু গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবর পাচ্ছি। কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে তারা রাখাইনে ফিরে না যায়। লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, কয়েকটি দাবি না মানলে রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে না। এসব দাবি তুলে বাংলাদেশকে জিম্মি করা ঠিক হবে না। আগেও এসব দাবি তুলে তারা যায়নি; কিন্তু না গেলে তাদের ভবিষ্যত্ খারাপ হবে। আমাদের পক্ষে দীর্ঘ সময় তাদের ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে না। বিদেশিরা যে সাহায্য করছে আগামীতে তাও কমে যাবে। আমাদের সঙ্গে আলোচনায় মিয়ানমার বলেছে, তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেবে, চলাফেরার স্বাধীনতা দেবে। সুতরাং তাদের এখন ফিরে যাওয়া উচিত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, যারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইবেন না তাদেরকে নোয়াখালীর ভাসানচরে পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি কক্সবাজারের শিবিরে যেসব এনজিও নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে কয়েকটি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিধন অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে মিয়ানমারের প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের প্রত্যাবাসনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও এখনো প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি।
