লটারিতে দূরের স্কুলে পদায়ন, ‘মিউচুয়াল’ বদলি চান শিক্ষকরা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৬

লটারির মাধ্যমে দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে পদায়ন পাওয়ায় যাতায়াত, বাসস্থান ও পারিবারিক নানা সমস্যায় পড়ছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫ ব্যাচের শিক্ষকরা। এসব সমস্যা সমাধানে ‘মিউচুয়াল ট্রান্সফার’ বা পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লটারির মাধ্যমে পদায়ন পাওয়া অনেক শিক্ষককে নিজ বাড়ি থেকে দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে কর্মস্থল দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের যাতায়াত, বাসস্থান, পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একে অপরের কর্মস্থলে বদলি হওয়ার সুযোগ দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। এতে উভয় পক্ষের সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চরাঞ্চল, হাওরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য পারস্পরিক বদলির সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব এলাকায় যাতায়াতব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য। পাশাপাশি নারী শিক্ষকদের পারিবারিক দায়িত্ব, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক বদলির আবেদনে অগ্রাধিকার দেওয়া বা প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের মতে, পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালু হলে তারা কর্মস্থলে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশেও।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকরা বলেন, একজন শিক্ষক মানসিকভাবে সুস্থ, নিরাপদ ও স্বস্তিতে থাকলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশও কার্যকর হয়। শিক্ষকদের ভোগান্তি কমানো গেলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত, আনন্দময় ও শিক্ষাবান্ধব হবে।

তারা জানান, কর্মজীবনের শুরুতেই দূরবর্তী কর্মস্থলে পদায়নের কারণে সৃষ্ট ভোগান্তি কমাতে স্বচ্ছ, সহজ ও দ্রুত পারস্পরিক বদলির ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যা, পারস্পরিক সম্মতি, নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ সুযোগ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ইত্তেফাক/এমএএম