জমি লিখে না দেওয়ায় ১১৫ বছর বয়সী মুমূর্ষু পিতাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। অভিযুক্ত বড় ছেলের দেওয়া টিনের বেড়ার কারণে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছিলেন ওই বৃদ্ধ। পরবর্তীতে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের ঢালী পাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগী বৃদ্ধের নাম হাজী মুনসুর আলী। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুল কাদির (৮০), যিনি ভুক্তভোগীর বড় ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাবার কাছে নিজের অংশের জমি লিখে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বড় ছেলে আব্দুল কাদির। দাবি আদায় না হওয়ায় তিনি বৃদ্ধ বাবার ঘরের সামনে টিনের বেড়া তুলে যাতায়াতের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। ফলে অসুস্থ বৃদ্ধের চিকিৎসার জন্য বাইরে বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং অবরুদ্ধ অবস্থায় শরীরে পচন ধরে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে।
ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে মোহাম্মদ আবু সাঈদ ও নাতি বাচ্চু মিয়া জানান, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বড় ভাই কাউকে তোয়াক্কা করেননি। জমি লিখে না দেওয়া পর্যন্ত বাবাকে চিকিৎসা করাতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বড় ছেলে আব্দুল কাদির প্রকাশ্যে জানান, তার অংশের জমি বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বাবাকে হাসপাতালে নিতে দেবেন না।
তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন মুরাদ ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ ভূঞা জানান, বিষয়টি জানার পরপরই গ্রাম পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
