নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে আবারও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিবেশী এক বিধবাকে মারধরের অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এর আগে মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর চার মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দলীয় শাস্তির মুখে পড়লেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে বারহাট্টা উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক। এ সময় অর্চনা রানী দাস নামের এক বিধবা তার পায়ে পড়ে অভিযোগ করেন, মোজাম্মেল হক সোহেল তাকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে কেন্দ্রীয় যুবদল সোহেলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে গত ৪ জুলাই মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে ৩০ জুলাই তার সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় যুবদল।
এবারের বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক সোহেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রতিবেশী ওই ভাবিকে সাত বছর আগে মেয়ের বিয়ের জন্য এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলাম। দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তার সঙ্গে কিছু তর্কবিতর্ক হয়েছিল। এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।’
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের লোকজন ওই নারীকে প্ররোচিত করে ও শিখিয়ে সংসদ সদস্যের কাছে পাঠিয়েছে এবং মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করিয়েছে।’
পুরো ঘটনাটিকে বানোয়াট দাবি করে সোহেল বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।’
