আমি জায়গা ভাড়া দিয়েছি, অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য দিইনি: অতিরিক্ত ডিআইজি জহির

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫১

রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও ৮৪ জন তরুণ-তরুণীকে আটকের পর তাকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই পদায়ন করা হয়।

এর আগে গত সোমবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পিওএইচএস-১ হাউজিংয়ের পুলিশ ফাঁড়ি-সংলগ্ন আড়াইতলা ভবনটিতে অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণীসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম ও উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘এয়ারবিএনবি’-এর মাধ্যমে এ বাড়িটির কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়া হতো এবং সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও অবৈধ ডিজে পার্টির আসর বসত। অনলাইনে বুকিং নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা এসব পার্টিতে অংশ নিতেন। এ থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির এবং ৩০ শতাংশ তার নিযুক্ত কো-হোস্ট ও কর্মীরা পেতেন।

ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির জানান, তিনি মূলত স্পেস বা জায়গা ভাড়া দিয়েছেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে ভাড়া দেননি। ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার খরচ ও কো-হোস্টদের ৩০ শতাংশ বাদ দিয়ে বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ তিনি নিয়ে থাকেন। তবে তার দাবি, বাড়িওয়ালাদের পক্ষে ভাড়াটেকে ঘরে বসেই সবসময় পাহারা দেওয়া বা তাদের সব কর্মকাণ্ডের খবর রাখা সম্ভব নয়। ভাড়াটেকে নিয়মকানুন বলে দেওয়া হলেও কেউ সেখানে অবৈধ কিছু করলে তার দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকের ওপর বর্তায় না।

এ সময় বিকৃত সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সত্যতা যাচাই না করে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ইত্তেফাক/এএম