দৈনিক ইত্তেফাকে গত ১০ আগস্ট ‘ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠানের ধারণা পালটে দিয়েছে যে গেজেট’ এবং পরদিন ১১ আগস্ট ‘খোলনলচে পালটে ফেলা হয়েছে হামদর্দের গেজেটে’ শিরোনামে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ। ১৮ আগস্ট দেওয়া প্রতিবাদে হামদর্দের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দুটিকে ‘অসত্য ও উদ্দেশপ্রণোদিত’ বলে দাবি করা হয়েছে।
১০ আগস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ‘‘অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠান ধর্ম মন্ত্রণালয় গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালনার নিয়ম থাকলেও দেশে সম্ভবত প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে ‘হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ’ এর ক্ষেত্রে।” এ ব্যাপারে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, ‘কথাটি সম্পূর্ণ অসত্য। কারণ বাংলাদেশ সরকারের ওয়াক্ফ প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশবরেণ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত ৯ সদস্যবিশিষ্ট হামদর্দ বোর্ড অব ট্রাস্টির সিদ্ধান্ত দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও প্রণীত নিয়মনীতি অনুসারে ওয়াক্ফ প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হামদর্দের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।’ গেজেট সম্পর্কে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, ‘গেজেট প্রকাশ যথাযথ রীতি অনুসরণ করে হয়েছে, এতে আইনের কোনো ব্যতয় ঘটেনি।’ আর ১১ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদে বলা হয়েছে, ‘একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাশেম আলী কখনো হামদর্দের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন না। এছাড়া হামদর্দের চিফ মোতাওয়াল্লি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূইয়ার নামে কোনো ফ্ল্যাট নেই।’
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রতিবেদন দুটি যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও চলতি বছর প্রকাশিত হামদর্দের গেজেটের ভিত্তিতে করা হয়েছে। কার্যত গেজেট নিয়েই প্রতিবেদন দুটি করা হয়। তবে প্রতিবাদপত্রে গেজেটের বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ১০ আগস্টের প্রতিবেদনে হামদর্দের চিফ মোতাওয়াল্লি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূইয়ার ছেলে ও হামদর্দের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল উদ্দিন ভূইয়া রাসেলের বক্তব্যও ছাপা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বক্তব্য জানার জন্য ইউছুফ হারুন ভূইয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হয় এবং প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে খুদেবার্তাও পাঠান, কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি। একইভাবে গেজেটের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক ওয়াক্ফ প্রশাসক ও হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূরুল হুদাকেও ফোন করা হয় এবং খুদেবার্তা পাঠানো হয়েছিল, তিনিও সাড়া দেননি। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাশেম আলী হামদর্দের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান না থাকলেও সদস্য ছিলেন। ১১ আগস্টের প্রতিবেদনের কোথাও বলা হয়নি- হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূইয়ার ব্যক্তিগত নামে কোনো ফ্ল্যাট আছে বা নাই। হামদর্দের আগের গেজেটে বলা ছিল, সুপ্রিম কোর্ট কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের এক জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন, যা বর্তমান গেজেটে পালটে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়টিও হামদর্দের প্রতিবাদে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
