সম্পত্তির দ্বন্দ্বে দাদাকে হত্যা: দুই পা কেটে রাখা হয় ট্রাভেল ব্যাগে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৬

‎কুড়িগ্রামের উলিপুরে মোকছেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রায়হান কবীর ওরফে রাব্বী (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

‎বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উলিপুর থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. মাসুদ রানা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানায়। পরে ঘটনা আড়াল করার জন্য তার মরদেহের দুই পা বিচ্ছিন্ন করে একটি সবুজ ট্রাভেলিং ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।

গ্রেপ্তার রায়হান কবীর রাব্বী একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে এবং নিহত মোকছেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়ার আপন ভাতিজার ছেলে। হত্যার শিকার বাচ্চ ‍মিয়া ও গ্রেপ্তার রাব্বী সম্পর্কে দাদা-নাতি।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ২০ অক্টোবর রাত ২টার মধ্যে কোনো এক সময় বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে আব্দুল মোতালেব মিয়া বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধায়নে তদন্ত শুরু করে উলিপুর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রাব্বীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের আহসান হাবিবের বাড়ির পূর্ব পার্শে একটি পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ রানা জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

‎উল্লেখ্য, উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পন্ডিত পাড়া এলাকায় ভাতিজার বাড়ির একটি শয়নকক্ষ থেকে মঙ্গলবার ভোরে মোকসেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার নব্দীগঞ্জ কলাবাড়ি এলাকায় বমবাস করতেন। তার পিতার নাম মৃত সজর উদ্দিন সরকার। তিনি রংপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। সেই রাতে নিহতের ভাতিজার ছেলে রাব্বি মিয়া তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

ইত্তেফাক/এপি