এইচএসবিসির শরিয়াহ তহবিলের ১৩ কোটি ডলার ইসরায়েল সামরিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০৪

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ তহবিল 'এইচএসবিসি ইসলামিক গ্লোবাল ইকুইটি ইনডেক্স ফান্ড' ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্কিত একাধিক কোম্পানির শেয়ার কিনতে ১৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। গাজায় সামরিক আগ্রাসন, দখলকৃত পশ্চিম তীরে হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি উপস্থিতির এই সময়ে মুসলিম গ্রাহকদের সঞ্চয়ে গঠিত শরিয়াহ ফান্ডের এমন বিনিয়োগ বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই ও হাইফেনের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ওই শরিয়াহ তহবিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত অন্তত পাঁচটি বিশ্বখ্যাত কোম্পানির শেয়ার কেনা হয়েছে।

এইচএসবিসি ইসলামিক ফান্ডের কেনা শেয়ার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো।

প্যালান্টির (Palantir - ৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার): মার্কিন এই ডেটা অ্যানালিটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে 'যুদ্ধ-সংক্রান্ত মিশনে' চুক্তিবদ্ধ। তাদের তৈরি এআই প্রযুক্তি গাজায় হামলা চালানো ও লক্ষ্যবস্তু তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আরটিএক্স (RTX - ৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি ইসরায়েলের আয়রন ডোম ও 'ডেভিডস স্লিং' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল অংশীদার রেথিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অ্যানালগ ডিভাইসেস (Analog Devices - ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার): এই মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিটি নজরদারি ও নির্ভুল অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরি করে, যা সরাসরি ইসরায়েলের সর্ববৃহৎ অস্ত্র নির্মাতা 'এলবিট সিস্টেমস'-এ সরবরাহ করা হয়েছে।

হানিওয়েল (Honeywell - ১ কোটি ৮৯ লাখ ডলার): এই বহুজাতিক কোম্পানির তৈরি সেন্সর ও গাইডেন্স সিস্টেম বিভিন্ন সামরিক অস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স ইউনিটটি হানিওয়েলের তৈরি ছিল।

রোলস-রয়েস (Rolls-Royce - ১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার): এই ব্রিটিশ বিমান ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগী সংস্থা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর 'মারকাভা' ট্যাংক ও 'এইতান' সাঁজোয়া যানের ইঞ্জিন সরবরাহ করে থাকে।

৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূলধনের এই এইচএসবিসি ফান্ডের বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই মুসলিম। শরিয়াহ নীতিমালা অনুযায়ী অসংগতিপূর্ণ বা অহালাল ক্ষেত্র এড়াতে ব্যাংকটির একটি স্বতন্ত্র 'ইসলামি আলেম বোর্ড' থাকলেও অস্ত্র ও সামরিক সরবরাহকারী কোম্পানি কীভাবে অনুমোদন পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইসলামি অর্থব্যবস্থার বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত স্ক্রিনিং বা যাচাইপদ্ধতিতে কেবল কোম্পানির 'মূল ব্যবসা' দেখা হয়, কিন্তু পণ্যের 'চূড়ান্ত ব্যবহার' কার ওপর বা কীভাবে হচ্ছে তা বিবেচনা করা হয় না। কারিগরি দিক থেকে উত্তীর্ণ হলেও কোনো নিরপরাধ মানুষের জীবনহানির জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ইসলামি আইনের 'মাকাসিদুশ শরিয়াহ' (জীবন রক্ষা ও বিচার) নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এইচএসবিসির একজন মুখপাত্র জানান, গ্রাহকদের উদ্বেগকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন। স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে বর্তমান বিনিয়োগের মানদণ্ড পর্যালোচনা করা হবে বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম